চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রতিযোগিতা যেন দিনে দিনে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এবার এই দৌড়ে নতুন এক বড় নাম হয়ে এল ‘মুনশট এআই’। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি তাদের নতুন শক্তিশালী এআই মডেল ‘কিমি কে টু’ উন্মোচন করেছে। শুক্রবার (১১ জুলাই) চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিএমজির বরাতে এ তথ্য সামনে আসে।
এই মডেলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো — এতে রয়েছে এক ট্রিলিয়ন প্যারামিটার। অর্থাৎ, এই এআই মডেল অসংখ্য তথ্য বিশ্লেষণ, বড় বড় ডেটাসেট নিয়ে কাজ এবং জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারদর্শী। শুধু তাই নয়, এটি সহজেই কোড লেখে, সফটওয়্যারের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং নানা প্রযুক্তিগত কাজকে সহজ করে ফেলে।
মুনশট দাবি করছে, তাদের নতুন মডেলটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের এআইগুলোর মতোই শক্তিশালী। এমনকি চীনের আলোচিত ওপেন সোর্স এআই ‘ডিপসিক ভার্সন-৩’ থেকেও এটি অনেক বেশি কার্যকর এবং দ্রুতগতিসম্পন্ন।
যা এই ঘোষণাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে, তা হলো — ‘কিমি কে টু’ সম্পূর্ণ ওপেন সোর্স। অর্থাৎ, যে কেউ এটি ব্যবহার করতে পারবে এবং নিজেদের মতো করে উন্নতিও করতে পারবে। চীনের একের পর এক প্রতিষ্ঠান এখন তাদের এআই মডেল সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিচ্ছে, যা বিশ্বের অন্য অনেক দেশের কোম্পানির চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন নীতি।
বর্তমানে ওপেনএআই বা গুগল, তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী এআই মডেলগুলো এখনো গোপনে রাখছে। সাধারণ মানুষ বা গবেষকরা সেগুলো সরাসরি ব্যবহার করতে পারে না। বিপরীতে, চীনের মুনশট, ডিপসিক, আলিবাবা, টেনসেন্ট বা বেইতৌ-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো উদারভাবে নিজেদের প্রযুক্তি উন্মুক্ত করে দিচ্ছে সবার জন্য।
এর ফলে চীনের এআই খাতে এক ধরনের নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে — যেখানে প্রযুক্তি শুধু কিছু বড় প্রতিষ্ঠানের হাতে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের হাতেও পৌঁছাচ্ছে। নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে, নতুন উদ্ভাবন সামনে আসছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনের দিনগুলোতে এআই প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে। তবে কে জিতবে এই প্রতিযোগিতায় — সেটা নির্ভর করবে শুধু শক্তিশালী মডেল বানানোর ওপর নয়, বরং কে কতটা খোলামেলা ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি করতে পারছে, সেটার ওপরও।
চীনের নতুন ‘কিমি কে টু’ সেই প্রতিযোগিতায় একটা বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে — যা শুধু প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ নয়, বরং উদারতা ও অংশগ্রহণের নতুন বার্তাও দিয়েছে।

