বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দৌড় প্রতিদিনই আরও জোরালো হচ্ছে। সেই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে এবার মেটা নিচ্ছে এক সাহসী আর কৌশলগত সিদ্ধান্ত—ডেটা সেন্টার নির্মাণের খরচ আর একা বহন নয়, এবার খুঁজছে আর্থিক অংশীদার। আর এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে তারা ২.০৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ বিক্রি করে দিচ্ছে।
সম্প্রতি মেটার এক কোয়ার্টারলি রিপোর্টে জানানো হয়েছে, তারা ডেটা সেন্টার নির্মাণে যৌথভাবে বিনিয়োগের পথ বেছে নিচ্ছে। ইতোমধ্যে জমি ও নির্মাণাধীন স্থাপনাসহ বিশাল কিছু সম্পদ “হেল্ড ফর সেল” ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত করেছে, যার মোট মূল্য ২.০৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এসব সম্পদ আগামী এক বছরের মধ্যেই তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে বিক্রি হয়ে যাবে, যারা এই প্রকল্পে মেটার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে।
এই পদক্ষেপ প্রযুক্তি দুনিয়ার একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যেখানে আগে গুগল, মাইক্রোসফট কিংবা অ্যামাজনের মতো টেক জায়ান্টরা তাদের সমস্ত অবকাঠামো নিজেরাই তৈরি করত, এখন এআই চালিত ভবিষ্যতের বিশাল খরচ মাথায় রেখে সবাই চাইছে পার্টনারশিপে যেতে।
মেটার ফিনান্স প্রধান সুসান লি জানিয়েছেন, “আমরা ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে যৌথ বিনিয়োগের পথ খুঁজছি। বেশিরভাগ ব্যয় আমরা বহন করলেও কিছু প্রকল্পে বাইরের বিনিয়োগ আসবে, যা আমাদের আরও নমনীয় করে তুলবে।”
মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জুকারবার্গ কিছুদিন আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, তারা এআই ও সুপারইন্টেলিজেন্সের জন্য এমন সব সুপার ডেটা সেন্টার নির্মাণ করছে, যেগুলোর আকার পুরো ম্যানহাটনের এক বিশাল অংশের সমান। এ প্রকল্পের বিশালতায় আকার যেমন বিশাল, তেমনি খরচও আকাশছোঁয়া।
আর এই খরচ সামলাতে শুধু অংশীদার খোঁজাই নয়, মেটা তাদের বার্ষিক মূলধন ব্যয়ের পূর্বাভাসও বাড়িয়ে ৬৬ থেকে ৭২ বিলিয়ন ডলার করেছে। কারণ? এআই নির্ভর বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট ডেলিভারিতে চমকপ্রদ সাফল্য। গত প্রান্তিকে মেটার বিজ্ঞাপন আয়ে বড় রকমের উল্লম্ফন দেখা গেছে, যা প্রতিষ্ঠানটির আয়ের ভিত আরও শক্ত করেছে।
সব মিলিয়ে, মেটার এই কৌশল শুধু ভবিষ্যতের প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ নয়, বরং একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সূচনা—যেখানে টেক জায়ান্টরাও বুঝে ফেলেছে, এআইর যুগে টিকে থাকতে হলে একা নয়, সবাইকে নিয়ে এগোতে হবে।
এই গল্পের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ এবং তার জন্য প্রস্তুত হওয়া আজকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মেটা সেই পথে হাঁটা শুরু করেছে। এখন দেখার, পরের পদক্ষেপে তারা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

