চীন আবারও প্রযুক্তির অঙ্গনে এক নতুন যুগের সূচনা করল—এবার এক হিউম্যানয়েড রোবটকে পাঠানো হচ্ছে পিএইচডি করতে!
নাম তার সুয়ে বা-০১। দেখতে মানুষের মতো, কাজেও মানুষের মতো দক্ষ হয়ে ওঠার পথে সে। চীনের বিখ্যাত সাংহাই থিয়েটার একাডেমিতে রীতিমতো পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছে রোবটটি—বিষয় নাট্যকলা, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন। বিশ্বে এই প্রথম, কোনও রোবট এতটা আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চশিক্ষায় যুক্ত হলো।
এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চমক তৈরি হয়েছে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ২০২৫ ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্সে, যেখানে রোবটটির ভর্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
লি লিংতু নামের এক বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তা এই সুয়ে বা-০১ এর প্রধান নির্মাতা। তিনি সাংহাই ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক এবং DroidApp নামের একটি রোবটিক্স কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা। রোবটটির বাহ্যিক নকশা করেছেন সাংহাই থিয়েটার অ্যাকাডেমির অধ্যাপক ইয়াং ছিংছিং।
লি লিংতু বলেন,
“আমাদের লক্ষ্য এমন এক পারফর্মার তৈরি করা, যে মানুষের অনুভূতি বুঝতে পারবে, এবং সেই আবেগ দিয়েই নাট্যশিল্প উপস্থাপন করতে পারবে।”
তার ভাষায়, মানুষ অনেক সময় বারবার পারফর্ম করে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু রোবট কখনও ক্লান্ত হয় না—এটি হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী অভিনয় সঙ্গী।
চার বছর মেয়াদি এই পিএইচডি প্রোগ্রামে সুয়ে বা-০১ পাবে নাট্যকলা ও রোবোটিক্স প্রযুক্তির সমন্বিত প্রশিক্ষণ। তার পাঠ্যসূচিতে থাকছে:
-
অভিনয়ের অঙ্গভঙ্গি ও দেহভাষা
-
মানুষের আবেগ বোঝা ও প্রকাশ করা
-
কগনিটিভ মডেলিং
-
নাট্যতত্ত্ব
-
সংগঠনের আচরণ ও মৌলিক শিল্প শিক্ষা
রোবটটি শুধু তাত্ত্বিক পড়াশোনাই নয়, ক্লাসরুমে অংশ নেবে, গবেষণা করবে, এবং পরে যুক্ত হবে AI ও পারফর্মিং আর্টস গবেষণাগারে।
২০২১ সাল থেকে শুরু হওয়া এক যুগান্তকারী প্রকল্পের ফল এই সুয়ে বা-০১। তখন থেকেই আর্টস ও রোবোটিক্সকে একত্রে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনায় কাজ করছে একাধিক প্রতিষ্ঠান।
চীনের এই উদ্যোগ শুধু প্রযুক্তির নয়, মানবিক অনুভূতির সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মেলবন্ধন—যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের অভিনয়শিল্প ও পারফর্মিং আর্টসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হতে চলেছে।একদিন যদি রোবটই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আপনাকে হাসায়, কাঁদায় কিংবা মুগ্ধ করে—তখন ভাববেন, এটা শুরু হয়েছিল আজকের এই সুয়ে বা-০১ দিয়ে।

