বিশ্বের সবার জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো ওপেনএআই-এর সর্বাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল চ্যাটজিপিটি-৫। শুক্রবার (৮ আগস্ট) বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান জানিয়েছেন, নতুন সংস্করণটি আগের চেয়ে অনেক বেশি স্মার্ট, দ্রুত এবং বহুক্ষেত্রে দক্ষ। তার ভাষায়, “এটি যেন একজন প্রকৃত বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলার মতো অভিজ্ঞতা দেয়।”
অল্টম্যান বলেন, যদিও মডেলটি এখনো মানুষের মতো চিন্তা করতে সক্ষম নয়, তবুও এটি সেই লক্ষ্যের পথে একটি বড় পদক্ষেপ। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করছেন বলে প্রতিষ্ঠানটি জানায়।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, এটি এমন একটি মডেল নয় যা ব্যবহার চলাকালে নতুন তথ্য থেকে শিখতে পারে। অথচ এটিই এজিআই- অর্থাৎ প্রকৃত কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা অর্জনের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করা হয়।
তবে অল্টম্যান চ্যাটজিপিটি-৫-এর সক্ষমতাকে ‘বিরাট অগ্রগতি’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এজিআই অর্জনের লক্ষ্যে সামনে আরও বহু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন প্রয়োজন।
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। আমাজন, গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট ও ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান এক্সএআই- সবাই প্রথম চ্যাটজিপিটির (২০২২ সালে) পর থেকে বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। চলতি বছরের শুরুতে চীনের একটি স্টার্টআপ ‘ডিপসিক’ শক্তিশালী মডেল উন্মোচন করে এআই দুনিয়ায় নতুন চমক সৃষ্টি করে।
অল্টম্যান জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই নতুন যুগে ‘ভাইব-কোডিং’- অর্থাৎ স্বাভাবিক ভাষায় কথা বলে সফটওয়্যার তৈরি করার প্রযুক্তি— জিপিটি-৫ যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠবে।
তিনি বলেন, “জিপিটি-৩ ছিল মাধ্যমিক ছাত্রের মতো- সঠিক উত্তর দিতে পারত, আবার অনেক সময় ভুল করত। জিপিটি-৪ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মতো। আর জিপিটি-৫ ব্যবহারে মনে হয়, আপনি যেন একজন পিএইচডি স্তরের বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলছেন।”
ব্রিটিশ এআই বিশেষজ্ঞ সাইমন উইলিসন, যিনি জিপিটি-৫ এর প্রাথমিক সংস্করণ ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছিলেন, একটি ব্লগ পোস্টে লিখেছেন, “এটি কাজের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ। নাটকীয় কিছু না হলেও ভুল কম করে এবং প্রায়ই চমকে দেয়।”
এদিকে প্রযুক্তি ধনী ইলন মাস্ক দাবি করেছেন, তার নিজস্ব মডেল ‘গ্রক ৪ হেভি’ চ্যাটজিপিটি-৫-এর চেয়েও ‘বেশি বুদ্ধিমান’।
নিরাপত্তার বিষয়েও ওপেনএআই নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা গবেষণা প্রধান অ্যালেক্স বিউটেল জানান, চ্যাটজিপিটি-৫-কে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে যাতে এটি ভুল বা বিভ্রান্তিকর উত্তর না দেয় এবং ক্ষতিকর কাজে ব্যবহার না হয়।
তিনি বলেন, “আমরা মডেলটির বিভ্রান্তিকর উত্তর দেওয়ার প্রবণতা মূল্যায়ন করেছি এবং এটিকে সৎ উত্তর দিতে প্রশিক্ষিত করেছি। এটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে সংবেদনশীল বা বিপজ্জনক প্রশ্ন এড়িয়ে যায়।”
এছাড়াও এই সপ্তাহে ওপেনএআই আরো দুটি নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল উন্মুক্ত করেছে, যেগুলো বিনামূল্যে ডাউনলোড করে ব্যবহারকারীরা নিজেদের মতো কাস্টমাইজ করতে পারবেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা এবং প্রতিযোগিতার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই অগ্রগতি মানবজীবন ও কর্মক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তন আনবে। মেটা প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ বলেছেন, “এআই উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হওয়ায় সুপারইনটেলিজেন্স এখন দিগন্তে। আমি বিশ্বাস করি, এটি মানবজাতির জন্য এক নতুন যুগের সূচনা হবে।”

