আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তথ্য না দেওয়ার অভিযোগে টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ কল নিষিদ্ধ করল রাশিয়া। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস সেবা ব্যবহার করে প্রতারণা, অর্থ আদায় ও রুশ নাগরিকদের ধ্বংসাত্মক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ানো হচ্ছে। বারবার পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও মেসেঞ্জারের মালিকরা তা উপেক্ষা করেছে বলেও জানিয়েছে রুশ অপরাধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে ভয়েস কলের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে রাশিয়া। সংবাদ সংস্থা আল জাজিরার তথ্য মতে, প্রতারণা ও সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত মামলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তথ্য না দেয়ার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ডিজিটাল উন্নয়ন মন্ত্রণালয়।
রুশ মিডিয়া মনিটরিং সংস্থা মিডিয়াস্কোপের তথ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের ফলে রাশিয়ায় হোয়াটসঅ্যাপের প্রায় ৯ কোটি ৬০ লাখ মাসিক ব্যবহারকারী ও টেলিগ্রামের ৮ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি ব্যবহারকারী প্রভাবিত হবেন। বুধবার এক বিবৃতিতে রাশিয়ার গণমাধ্যম ও ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা রস্কোমনাডজর এই পদক্ষেপকে অপরাধ দমনের জন্য প্রয়োজনীয় বলে দাবি করেছে।
রস্কোমনাডজর জানায়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বহু নাগরিকের অভিযোগ অনুযায়ী, বিদেশী মেসেঞ্জার টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস সেবা ব্যবহার করে প্রতারণা, অর্থ আদায় এবং রুশ নাগরিকদের ধ্বংসাত্মক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ানো হচ্ছে। বারবার পাল্টা পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানানো হলেও মেসেঞ্জারের মালিকরা তা উপেক্ষা করেছে বলেও দাবি সংস্থাটির।
মস্কো চায় এই অনলাইন মেসেজিং সেবাগুলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অনুরোধে ব্যবহারকারীর ডেটায় প্রবেশাধিকার দিক। রস্কোমনাডজর বলেছে, বিদেশী মেসেঞ্জার কলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তখনই তুলে নেয়া হবে, যখন তারা রুশ আইন মেনে চলা শুরু করবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধুমাত্র ভয়েস কল সীমিত করা হয়েছে। তবে রাশিয়ার ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপে ভিডিও কলও প্রভাবিত হয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আক্রমণ শুরুর পর থেকে মস্কো রাশিয়ার ইন্টারনেট অংশের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রায়ই অভিযোগ তুলেছে, রাশিয়ায় মানুষ নিয়োগ বা ধ্বংসাত্মক কাজ চালানোর জন্য টেলিগ্রাম ব্যবহার করছে ইউক্রেন।
গত মাসে রুশ সরকার একটি আইন পাস করেছে। এর আওতায় কর্তৃপক্ষের কাছে অবৈধ বলে বিবেচিত কোনো কনটেন্ট খোঁজার চেষ্টা করলে ব্যবহারকারীদের শাস্তি পেতে হবে। পাশাপাশি জনপ্রিয় মেসেজিং সেবার পরিবর্তে ‘ম্যাক্স’ নামে একটি দেশীয় রুশ অ্যাপ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

