স্পেসএক্স তাদের নতুন প্রজন্মের রকেট স্টারশিপ-এর সফল উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে, যা সংস্থার দীর্ঘ সময়ের ব্যর্থতার ধারাকে ভেঙেছে। রকেটটি বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট হিসেবে বিবেচিত। এর মাধ্যমে স্পেসএক্স একটি দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে টেক্সাস থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় স্টারশিপ। প্রায় ৬০ মিনিটের উত্তেজনাপূর্ণ ফ্লাইটে কিছু অংশ বিস্ফোরিত হতে দেখা যায় এবং ফ্ল্যাপগুলো আগুন ধরে দুলতে থাকে। তবে শুরু থেকেই ইতিবাচক সংকেত লক্ষ্য করা গিয়েছিল। বুস্টার সুপার হেভি-এর ৩৩টি ইঞ্জিন সফলভাবে চালু হয়। প্রায় সাত মিনিট পর বুস্টারটি মহাকাশযান থেকে আলাদা হয়ে মেক্সিকো উপসাগরে পতিত হয়।
এরপর স্টারশিপ পৃথিবীর প্রায় ২০০ কিলোমিটার উপরে উঠে প্রদক্ষিণ করতে থাকে। স্পেসএক্স জানিয়েছে, তারা রকেটটিকে এর সীমা যাচাই করার জন্য চাপে রেখেছিল। অবতরণের সময় ফ্ল্যাপের আগুন ধরে যাওয়া এবং দুলে ওঠার দৃশ্য সেই পরীক্ষারই অংশ।
স্টারশিপ এখন পর্যন্ত নির্মিত সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী রকেট। এটি সুপার হেভি নামের বুস্টার এবং স্টারশিপ নামের মহাকাশযান দিয়ে গঠিত। স্পেসএক্স এটিকে এমনভাবে ডিজাইন করেছে, যাতে একদিন চাঁদ এবং মঙ্গল গ্রহে মানুষ পরিবহনের জন্য সম্পূর্ণ পুনরায় ব্যবহারযোগ্য পরিবহন ব্যবস্থা হতে পারে।
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ২০২৭ সালে ‘আর্টেমিস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁদে মানুষ পাঠাতে স্টারশিপের একটি পরিবর্তিত সংস্করণ ব্যবহার করার চুক্তি করেছে। তবে বেশিরভাগ পর্যবেক্ষক মনে করছেন, সময়সীমা পেছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্ক এক্স-এ লিখেছেন, “স্পেসএক্স দলের অসাধারণ কাজ!”। পরপর তিনটি ব্যর্থ উৎক্ষেপণ এবং জুনে একটি রকেট লঞ্চপ্যাডে বিস্ফোরিত হওয়ার পর এই সাফল্য স্পেসএক্সের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।
স্টারশিপের প্রথম সংস্করণের পাঁচটি উৎক্ষেপণ সফল হয়েছিল। কিন্তু নতুন সংস্করণের সব প্রচেষ্টা বিস্ফোরিত হয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। এই বছর পরপর তিনটি ব্যর্থতার পর স্পেসএক্সের ভবিষ্যৎ এবং ইলন মাস্কের রাজনীতিতে ব্যস্ততার ওপর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। স্পেসএক্সের দর্শন হলো, “দ্রুত ব্যর্থ হও, দ্রুত শিখো।” তাই তারা ব্যর্থতাকে নতুন তথ্য সংগ্রহ ও উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে দেখছে।

