দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর আবারও চাঁদে মানব অভিযানের নির্ধারিত তারিখ ঘোষণা করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সব প্রস্তুতি ঠিক থাকলে আগামী ৬ মার্চ শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত আর্টেমিস-২ মিশন।
এই মিশনের মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর প্রথমবারের মতো কোনো মানববাহী মহাকাশযান চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করবে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার নাসার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লোরি গ্লেজ সম্ভাব্য উৎক্ষেপণ তারিখ হিসেবে ৬ মার্চ নিশ্চিত করেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, উৎক্ষেপণ প্যাডের কাজ, ফ্লাইট প্রস্তুতি পর্যালোচনা এবং মহড়া বিশ্লেষণের সফল সমাপ্তির ওপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
গ্লেজের ভাষায়, “আমাদের সব ধাপ সফলভাবে শেষ করতে হবে। তা সম্ভব হলে ৬ মার্চ উৎক্ষেপণের জন্য আমরা খুব ভালো অবস্থানে থাকব।”
উৎক্ষেপণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালে নাসার বিশাল এসএলএস (স্পেস লঞ্চ সিস্টেম) রকেটের পূর্ণাঙ্গ মহড়া সম্পন্ন হয়েছে।
রকেটের জ্বালানি ট্যাঙ্ক পূর্ণ করে এবং সব প্রযুক্তিগত পরীক্ষা চালিয়ে একেবারে বাস্তব উৎক্ষেপণের মতো করে এই মহড়া চালানো হয়।
নাসা জানিয়েছে, কাউন্টডাউন টি-২৯ সেকেন্ড পর্যন্ত গিয়ে মহড়া শেষ হয়েছে, যা পরিকল্পনা অনুযায়ী সফল।
ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে একই ধরনের মহড়ায় জ্বালানি ছিদ্রসহ কয়েকটি কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ে। সেই কারণে চলতি মাসেই উৎক্ষেপণের যে ক্ষীণ আশা ছিল, তা ভেস্তে যায়।
তবে সমস্যাগুলো সমাধান করে মার্চ মাসকে এখন লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে নাসা।
ঐতিহাসিক এই মিশনে অংশ নিচ্ছেন চারজন মহাকাশচারী—তিনজন যুক্তরাষ্ট্রের এবং একজন কানাডার নাগরিক।
তারা সরাসরি চাঁদে অবতরণ করবেন না। বরং চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
এই মিশন ভবিষ্যতে মানবজাতির চাঁদে পুনরায় পদার্পণের পথ প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আর্টেমিস কর্মসূচি মূলত চাঁদে টেকসই মানব উপস্থিতি গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। ১৯৭০-এর দশকের অ্যাপোলো মিশনের পর এবারই প্রথম মানুষ আবার চাঁদের এত কাছে পৌঁছাতে যাচ্ছে।
যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তবে ৬ মার্চ মানব মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।

