ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে নামসর্বস্ব ও কাগুজে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ে ২৮৯টি প্রতিষ্ঠানের নামে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ বের করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে জানা গেছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বাস্তবে অস্তিত্বহীন হওয়ায় এখন পুরো ঋণই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে, যা ব্যাংকটির আর্থিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। সংস্থাটির প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ব্যাংকের অভ্যন্তরের অন্তত দেড় শতাধিক কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব ঋণ অনুমোদন করা হয়। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই না করা, জামানত না নেওয়া এবং কাগজপত্রে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও অনুমোদন দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে।
দুদক জানিয়েছে, এসব ঋণের প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা, তা চিহ্নিত করার কাজ চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষও ইতোমধ্যে বিষয়টি দুদকের কাছে তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় এই বিপুল অর্থ নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে বের করে নেওয়া হয়েছে। ফলে এই ঋণ আদায় করা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঋণ অনুমোদন ও যাচাই-বাছাই মূলত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের দায়িত্ব। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দিষ্ট সময় পর পর পরিদর্শন করে অনিয়ম চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। তবে যেহেতু এসব ঋণ কেন্দ্রীয় পরিদর্শনের আগেই বিতরণ করা হয়েছে, তাই প্রাথমিক দায় ব্যাংক ব্যবস্থাপনার ওপরই বর্তায় বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, শতাধিক কোটি টাকার ঋণ নেওয়া একাধিক প্রতিষ্ঠান মূলত কাগুজে কোম্পানি। কিছু প্রতিষ্ঠানের নামে কোটি কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হলেও তাদের প্রকৃত কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছিল না। ফলে এসব অর্থ আর ফেরত আসার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন বড় আকারের ঋণ জালিয়াতি শুধু একটি ব্যাংকের জন্য নয়, পুরো ব্যাংক খাতের আস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণ আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষার বিষয়টি এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুদকের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২৮৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বহু প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক ঋণ সুবিধা নেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে একই গোষ্ঠী ভিন্ন ভিন্ন নামে প্রতিষ্ঠান খুলে ঋণ গ্রহণ করেছে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
বর্তমানে তদন্ত দল নথিপত্র যাচাই, লেনদেন বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হবে, যার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

