Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice রবি, জুন 14, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » হাইকোর্টে ১৫ বিচারপতির বিদায়—এমন নজিরবিহীন পরিবর্তনের পেছনে কারণ কী?
    আইন আদালত

    হাইকোর্টে ১৫ বিচারপতির বিদায়—এমন নজিরবিহীন পরিবর্তনের পেছনে কারণ কী?

    নিউজ ডেস্কUpdated:মে 11, 2026মে 11, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    নভেম্বর ২০২৪ থেকে এপ্রিল ২০২৬—মাত্র দেড় বছরের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগ থেকে বিদায় নিয়েছেন ১৫ জন বিচারপতি। এই বিদায়গুলো কোনো সাধারণ অবসর প্রক্রিয়ায় হয়নি। অভিযোগের পর অভিযোগ, তদন্ত, পদত্যাগ এবং অপসারণ—সব মিলিয়ে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে উচ্চ আদালত।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এসব বিচারপতির বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে ভূমিকা পালন, দুর্নীতি, অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতেই তাদের অধিকাংশকে বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে যেতে হয়েছে।

    এই ১৫ জন বিচারপতির মধ্যে পাঁচজন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগ বিচারাধীন থাকা অবস্থাতেই পদত্যাগ করেন।
    আরও তিনজন বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের অপসারণ করা হয়। এ ছাড়া, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া দুই অতিরিক্ত বিচারপতিকে স্থায়ী করা হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই তারা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। অন্যদিকে, দুইজন বিচারপতি বিচারকাজে বিরত থাকার সময় চাকরির বয়সসীমা ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় অবসরে যান।

    ১২ বিচারপতির আলাদা পর্যালোচনা ও পরিস্থিতি: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অনিয়মের অভিযোগে মোট ১২ জন বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানো হয় বলেও জানা যায়। তাদের মধ্যে—

    • ১০ জন বিচারকাজে আর ফিরতে পারেননি
    • ১ জন বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্তে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তিনি আবার বিচারকাজে ফিরে আসেন
    • ১ জন বিচারপতির বিষয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তদন্ত এখনো চলমান
    • দুইজন বিচারপতি তদন্ত পর্যায়ে থাকা অবস্থাতেই পদত্যাগ করেন

    এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী জানান, তদন্ত ও অভিযোগের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এসব সিদ্ধান্ত এসেছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, অভিযোগের ভিত্তিতে নেওয়া এই ব্যবস্থা বিচার বিভাগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, একের পর এক বিচারপতির বিদায় উচ্চ আদালতের ভেতরের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতের বিচারপতিদের জন্যও একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে এখনো তদন্তাধীন রয়েছে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ। অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় তাঁর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।

    অন্যদিকে, ছুটিতে পাঠানো ১২ বিচারপতির মধ্যে বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তিনি আবারও বিচারকাজে ফিরে এসেছেন। তদন্ত ও অভিযোগ অনুসন্ধানের মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন দুই বিচারপতি। তারা হলেন বিচারপতি মামনুন রহমান এবং বিচারপতি রেজাউল হাসান। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ যাচাই চলমান অবস্থাতেই তারা পদত্যাগ করেন।

    ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর দুর্নীতি এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করার অভিযোগ ওঠার পর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ১২ জন বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠান। ওই সিদ্ধান্তের পর তাদের হাইকোর্ট বেঞ্চে বিচারকাজ পরিচালনা থেকে বিরত রাখা হয়।

    বিচারপতিদের বিরুদ্ধে নেওয়া এসব ব্যবস্থা নিয়ে আইন অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তদন্ত এবং সম্ভাব্য অপসারণ পুরো বিচার ব্যবস্থার জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব এ প্রসঙ্গে বলেন, বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সততা, দলনিরপেক্ষতা এবং স্বাধীনভাবে বিচারকাজ পরিচালনা করা।

    তিনি আরও বলেন, “বিচার বিভাগে বিশেষ করে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগে স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা গণতন্ত্রের জন্য জরুরি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্যও জরুরি। এগুলো থেকে যদি আমরা শিক্ষা না নিই, তাহলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপদের ঝুঁকি থেকে যাবে।”

    তিনি আরও মন্তব্য করেন, “আমি মনে করি বাংলাদেশে কেউই সার্বভৌম না। সার্বভৌম হচ্ছে একমাত্র বাংলাদেশের জনগণ। সবাই জনগণের সেবার জন্য নিয়োজিত।”

    বিচার বিভাগের ইতিহাসে বিরল ঘটনা—একে একে বিদায় ১৫ বিচারপতি:

    হাইকোর্ট থেকে বিদায় নেওয়া বিচারপতি নাইমা হায়দার:

    সুপ্রিম কোর্টের আলোচিত ও সমালোচিত বিচারপতি নাইমা হায়দার ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নিজ হাতে লেখা ও স্বাক্ষরযুক্ত একটি পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি ওই পত্র প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেন। পরবর্তীতে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে তাঁর বিচারিক দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

    এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর থেকে তাঁকে বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হয়। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রাখা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

    বিচারপতি মামনুন রহমানের পদত্যাগ:

    মামনুন রহমান হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরবর্তীতে ২৩ ফেব্রুয়ারি তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি। আইন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মামনুন রহমান এবং বিচারপতি নাইমা হায়দার সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের দফা ৮ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতি তাঁদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন।

    এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন। ওই পদত্যাগপত্র সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ই-মেইলে পাঠানো হয়। তখন তিনি কানাডা থেকে পদত্যাগপত্র প্রেরণ করেন বলে জানা যায়। দীর্ঘ সময় ছুটিতে থাকার পর শেষ পর্যন্ত তাঁর পদত্যাগের মধ্য দিয়েই হাইকোর্টে তাঁর বিচারিক দায়িত্বের সমাপ্তি ঘটে।

    বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলন:

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম এবং এস এম মাসুদ হোসেন দোলন-কে বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হয়। ওই সময় তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় সাময়িকভাবে। এরপর ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি হাইকোর্টের এই দুই বিচারপতিকে স্থায়ীভাবে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

    প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২২ সালের ৩১ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগে মোট ১১ জন অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ পান। পরে ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই তাদের মধ্যে ৯ জনকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে মো. আমিনুল ইসলাম ও এস এম মাসুদ হোসেন দোলনকে আরও ছয় মাসের জন্য অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত তারা স্থায়ী হননি।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ছুটিতে পাঠানো ১২ বিচারপতির তালিকাতেও তাদের নাম ছিল বলে জানা যায়, যাদের বিরুদ্ধে তৎকালীন সরকারের সময় অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছিল।

    বিচারপতি খিজির হায়াতের অপসারণ:

    হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি খিজির হায়াত-কে ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ পদ থেকে অপসারণ করা হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ আবু তাহের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের দফা ৬ অনুযায়ী তাঁকে পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত দেন। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি খিজির হায়াতকে নিজ পদ থেকে অপসারণ করা হলো।

    শিক্ষাজীবন শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। পরে ১৯৯৭ সালের ৬ আগস্ট তিনি ঢাকা জেলা জজ আদালতে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। এরপর ২০০১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

    ২০১৮ সালের ৩১ মে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর তিনি স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পান। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালে এসে তাঁর বিচারিক দায়িত্বের সমাপ্তি ঘটে অপসারণের মাধ্যমে।

    বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের অপসারণ:

    হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান-কে ২০২৫ সালের ২২ মে পদ থেকে অপসারণ করেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ আবু তাহের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের দফা ৬ অনুযায়ী তাঁকে বিচারক পদ থেকে অপসারণ করা হলো।

    প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, ২০১৮ সালের ৩১ মে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। পরে ২০২০ সালের ৩০ মে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

    এই ধরনের ঘটনাকে ঘিরে আইন অঙ্গনে আলোচনা ও মূল্যায়ন চলছে। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা এবং সততা রক্ষা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশে কেউই সার্বভৌম না। সার্বভৌম হচ্ছে একমাত্র বাংলাদেশের জনগণ। সবাই জনগণের সেবার জন্য নিয়োজিত। বিচার বিভাগে বিশেষ করে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগে স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা গণতন্ত্রের জন্য জরুরি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্যও জরুরি। এখান থেকে যদি আমরা শিক্ষা না নিই, তাহলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপদের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।” এই অপসারণকে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগের জবাবদিহি, স্বাধীনতা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

    বিচারপতি রেজাউল হাসানের পদত্যাগ:

    হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান-এর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে। ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের দফা ৮ অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠান। পরে রাষ্ট্রপতি তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। এর আগে ৩০ মার্চ তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে জানা যায়।

    পদত্যাগের আগে তাঁর বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগ উত্থাপিত হয়। দুর্নীতি, অসদাচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক আবেদন করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১০ ও ২০১১ সালের দুটি কোম্পানি মামলার কার্যক্রমে তিনি পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। একটি মামলায় সংশ্লিষ্ট সিনিয়র আইনজীবী উপস্থিত না থাকলেও রায়ে তার নামে যুক্তিতর্ক উল্লেখ করা হয়, যা পরে আপিল বিভাগে বাতিল হয়। আরেকটি মামলায় আবেদনকারীর স্ত্রীকে পক্ষ না করেই তার ১৩ লাখ শেয়ার বাতিল করা হয়, যা আবেদনকারীর মতে ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী।

    বিচারপতি আক্তারুজ্জামানের পদত্যাগ:

    হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. আক্তারুজ্জামান ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট অনিয়মের অভিযোগে ছুটিতে পাঠানোর পর পদত্যাগ করেন। এর আগে ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট অনিয়মের অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে তাঁকে ছুটিতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তাঁর বিষয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে চূড়ান্ত শুনানি সম্পন্ন হয়।

    জেলা জজ থাকাকালে তিনি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দেন—এ ঘটনাও তাঁর কর্মজীবনে আলোচিত অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

    বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের অপসারণ:

    হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার-কে ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর পদ থেকে অপসারণ করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্তে তিনি বিচারিক দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে অযোগ্য বলে বিবেচিত হন। সে অনুযায়ী সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়।

    তিনি ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিচার বিভাগের সংস্কার দাবির প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর তাঁকেসহ ১২ বিচারপতিকে বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হয়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে ‘দলবাজ ও দুর্নীতিবাজ’ অভিযোগ তুলে আন্দোলন ও বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে।

    বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের পদত্যাগ:

    ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে কাজ করার অভিযোগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন-কে ছুটিতে পাঠানো হয়। এরপর তিনি কানাডা থেকে পদত্যাগপত্র পাঠান। এর আগে তিনি গোপনে কানাডায় অবস্থান করছিলেন বলে জানা যায়।

    সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠান। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান চলমান অবস্থাতেই তিনি পদত্যাগ করেন।

    বিচারপতি আতাউর রহমান খান ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস:

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর তৎকালীন সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করার অভিযোগে যে ১২ বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানো হয়, তাঁদের মধ্যে ছিলেন আতাউর রহমান খান এবং আশীষ রঞ্জন দাস। পরে ছুটিতে থাকা অবস্থায় চাকরির বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় তাঁরা অবসরে চলে যান।

    বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী, কাজী রেজাউল হক ও এ কে এম জহিরুল হক:

    দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হাইকোর্ট বিভাগের তিন বিচারপতি ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর পদত্যাগ করেন। তাঁরা হলেন সালমা মাসুদ চৌধুরী, কাজী রেজাউল হক এবং এ কে এম জহিরুল হক।

    আইন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের দফা ৪ অনুযায়ী তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করেন এবং রাষ্ট্রপতি তাঁদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। এর আগে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় পাঁচ বছর তাঁরা বিচারকাজ থেকে বিরত ছিলেন।

    সব মিলিয়ে দেড় বছরের এই ঘটনাপ্রবাহ শুধু ১৫ জন বিচারপতির বিদায় নয়—এটি হাইকোর্টের ভেতরে তৈরি হওয়া এক অদৃশ্য চাপের প্রতিচ্ছবি। অভিযোগ, তদন্ত, পদত্যাগ ও অপসারণের প্রতিটি ধাপ যেন একেকটি স্তর খুলে দিয়েছে, কিন্তু সেই স্তরের নিচে কী আছে, তা আরও ঘোলাটে হয়ে উঠছে।

    এতগুলো বিচারপতির একসঙ্গে বা ধারাবাহিকভাবে সরে যাওয়া শুধু সংখ্যার বিষয় নয়—এটা কি কোনো বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ, নাকি বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্তের দীর্ঘ সারি? প্রশ্নটা এখানেই থেমে যায় না, বরং আরও ভারী হয়ে ফিরে আসে—যদি এটা পরিবর্তন হয়, তবে সেই পরিবর্তনের নিয়ন্ত্রক কে?

    এতগুলো বিচারপতির একে একে সরে যাওয়া কি শুধুই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ফল, নাকি এর ভেতরে আরও গভীর কোনো কাঠামোগত বাস্তবতা কাজ করছে—যা ধীরে ধীরে পুরো ব্যবস্থার চিত্র বদলে দিচ্ছে? আর যদি সত্যিই কোনো পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলমান থাকে, তবে সেই পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়াবে কোথায়—এ প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত রহস্য হয়ে থাকে। সূত্র: ঢাকা পোস্ট

    সিভি/এম

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    আকাশ্চুম্বী রাজস্ব লক্ষ্য পূরণে কতটা প্রস্তুত দেশের অর্থনীতি?

    জুন 14, 2026
    আইন আদালত

    মানহানির মামলায় আত্মসমর্পণে যাচ্ছেন আমির হামজা

    জুন 14, 2026
    অর্থনীতি

    বিশাল প্রণোদনায় প্রাণ ফিরতে পারে কৃষি খাতে

    জুন 14, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.