পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশি হাজিদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক ফিরতি ফ্লাইটে কয়েক হাজার হাজি দেশে পৌঁছেছেন। তবে এবারের হজ মৌসুমে সৌদি আরবে অবস্থানকালে ৩৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩০ মে গভীর রাত পর্যন্ত ১৫টি ফিরতি ফ্লাইটে মোট ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি বাংলাদেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী ৪১৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় অংশ নেওয়া ৫ হাজার ৭৫৯ জন রয়েছেন।
হজ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা, যাত্রীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, আবাসন পরিস্থিতি এবং চিকিৎসাসেবার সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনায় মক্কায় বাংলাদেশ মিশনের কনফারেন্স কক্ষে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রশাসনিক, চিকিৎসা ও তথ্যপ্রযুক্তি দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। হাজিদের নির্বিঘ্নে দেশে ফেরানো এবং অবশিষ্ট কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে সেখানে আলোচনা হয়।
ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ৩০ মে। প্রথম ফ্লাইটটি জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কয়েকশ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় এবং পরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ফিরে আসা হাজিদের পরিবহনে তিনটি এয়ারলাইন্স দায়িত্ব পালন করছে। এর মধ্যে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা, সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন্স এবং বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ফ্লাইনাস উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করেছে। এখন পর্যন্ত পরিচালিত ১৫টি ফিরতি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ৩টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৪টি এবং ফ্লাইনাস ৮টি ফ্লাইট।
অন্যদিকে এবারের হজ মৌসুমে সৌদি আরবে মোট ৩৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ এবং ১৩ জন নারী। তাদের অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে মক্কায়, আর বাকিরা মারা গেছেন মদিনায়। বয়সজনিত জটিলতা, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা ও শারীরিক দুর্বলতা হজ মৌসুমে মৃত্যুর সাধারণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে, যদিও পৃথকভাবে সবার মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করা হয়নি।
হজ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ১৭৬ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। বর্তমানে ২৬ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হজ মিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি করছে।
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পান। হজযাত্রী পরিবহনের প্রথম ফ্লাইট ছেড়ে যায় ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট পরিচালিত হয় ২১ মে।
এদিকে হাজিদের দেশে ফেরানোর কার্যক্রম ৩০ মে শুরু হয়ে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব হাজি নিরাপদে দেশে ফিরতে পারবেন এবং চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনা সফলভাবে সম্পন্ন হবে।

