শারীরিক অসুস্থতার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দীপেন দেওয়ান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আজ সোমবার তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই শারীরিক জটিলতা আরও বেড়ে যাওয়ায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।
তিনি লিখেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শারীরিক অসুস্থতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে দায়িত্বে থেকে প্রত্যাশিত মানের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই তিনি মনে করছেন।
দীপেন দেওয়ান তার পদত্যাগপত্রে আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বজায় রাখতে সক্ষম ও সক্রিয় নেতৃত্ব প্রয়োজন। নিজের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তিনি মনে করেছেন, দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোই হবে সবচেয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।
এ কারণে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।
তবে পদত্যাগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত দীপেন দেওয়ানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সরকারও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি। ফলে তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে কি না এবং পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পাবেন, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।
দীপেন দেওয়ান রাঙামাটি পার্বত্য জেলার নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। একই সঙ্গে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে এই মন্ত্রণালয় সরাসরি সম্পৃক্ত।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হলে এটি শুধু মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বেই পরিবর্তন আনবে না, পার্বত্য অঞ্চলের চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও নতুন প্রশাসনিক সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। তবে সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এখন নজর থাকবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিদ্ধান্তের দিকে। পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হলে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে কে আসবেন এবং চলমান কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটিই হবে পরবর্তী আলোচনার প্রধান বিষয়।

