Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বৃহস্পতি, মে 21, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home»অর্থনীতি»এত বড় বাজেট পরিকল্পনা—অর্থ আসবে কোথা থেকে
    অর্থনীতি

    এত বড় বাজেট পরিকল্পনা—অর্থ আসবে কোথা থেকে

    নিউজ ডেস্কমে 21, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রণয়ন করছে বিএনপি সরকার। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসন্ন অর্থবছরের সম্ভাব্য বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। আকারের দিক থেকে এটি দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বাজেট হতে যাচ্ছে।

    চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বাজেট বাড়ছে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা।

    অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত সোমবার তাঁর কার্যালয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের ১৫ বছর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরের পর যে ভঙ্গুর অর্থনীতি পাওয়া গেছে, তা পুনর্গঠনের প্রতিফলন থাকবে আগামী অর্থবছরের বাজেটে। তবে এই অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকারের আয় প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে ধীরগতির। অন্যদিকে ঋণের চাপ দ্রুত বাড়ছে। ফলে বড় আকারের এই বাজেটের আড়ালে স্পষ্ট হয়ে উঠছে রাজস্ব ঘাটতি, ঋণনির্ভরতা এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনার জটিল সমীকরণ।

    একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সংস্কার–সংক্রান্ত চাপও মোকাবিলা করতে হবে সরকারকে। সব মিলিয়ে আগামী বাজেট রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক চাপ—এই তিন বাস্তবতার ভারসাম্য রক্ষার একটি কঠিন পরীক্ষায় পরিণত হতে যাচ্ছে।

    বাজেট ঘাটতি কত দাঁড়াচ্ছে:

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে নতুন বাজেট উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। তবে এবারের বাজেট প্রণয়নে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থের জোগান।

    আগামী অর্থবছরের বাজেটে মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে সম্ভাব্য ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকারকে মূলত দেশি ও বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। একই সময়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংক খাতের দুর্বলতা কাটানোর চাপও সামলাতে হবে সরকারকে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী গত ১৩ ও ১৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থসচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে বাজেট নিয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠক সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে নীতিনির্ধারকদের আলোচনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হিসেবে উঠে এসেছে—এত বড় বাজেটের অর্থ আসবে কোথা থেকে।

    অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আগামী বাজেটে শুধু সুদ পরিশোধেই ব্যয় হতে পারে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। দেশি ও বিদেশি ঋণের দ্রুত বৃদ্ধির কারণে এই ব্যয় এখন সরকারের অন্যতম বড় চাপ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর ঋণ পরিশোধ শুরু হওয়ায় আগামী কয়েক বছর এ চাপ আরও বাড়তে পারে।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, এনবিআর, এনবিআর–বহির্ভূত আয় এবং কর ব্যতীত আয় থেকে আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচিত হওয়ায় এখন সর্বস্তরের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, করের আওতার মধ্যে থাকা, আওতার বাইরে থাকা এবং কালো অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত সব উৎস থেকেই কর আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    কর বাড়লেও স্বস্তি কতদূর:

    আগামী বাজেটে কর কাঠামোয় কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য করমুক্ত আয়সীমা কিছুটা বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার। তবে একই সঙ্গে নতুন কিছু খাতে কর আরোপের বিষয়েও আলোচনা চলছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    নতুন পরিকল্পনার আওতায় মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ভ্যাট অব্যাহতির তালিকা ছোট করার বিষয়েও ভাবা হচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন পণ্য ও সেবা ভ্যাট ছাড় সুবিধা পেলেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের ছাড় কমানোর পরামর্শ দিয়ে আসছে।

    বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় এখনো কম। বর্তমানে এটি ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। অথচ উন্নয়ন ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং ঋণ পরিশোধের চাপ সামাল দিতে সরকারের আরও বেশি রাজস্ব প্রয়োজন।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা বলছেন, করের আওতা বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে বিকল্প সীমিত। তবে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু নিয়মিত করদাতাদের ওপর চাপ বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় সম্ভব নয়; বরং নতুন উৎস খুঁজে বের করা জরুরি।

    ফলে আগামী বাজেটে ভ্যাট, উৎসে কর এবং সেবা খাত থেকে আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রত্যক্ষ করের তুলনায় পরোক্ষ করের ওপর সরকারের নির্ভরতা অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে ভ্যাট কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা আপাতত কম। উল্লেখযোগ্যভাবে, এক কেজি পণ্য কিনলে একজন দিনমজুর ও একজন উচ্চ আয়ের ব্যক্তি একই হারে ভ্যাট পরিশোধ করেন—এমন ব্যবস্থাই বর্তমানে কার্যকর রয়েছে।

    উন্নয়ন খরচ বাড়লেও অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন:

    আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। চলতি সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

    অর্থমন্ত্রীর মতে, উন্নয়ন ব্যয় না বাড়ালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। একইভাবে বড় বাজেট ছাড়া বিনিয়োগও বাড়বে না বলে তিনি মনে করেন। তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন, মেগা প্রকল্পের নামে অর্থ অপব্যবহার হলে তা বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

    বাংলাদেশে প্রায় প্রতি বছরই বড় আকারের বাজেট ঘোষণা করা হয়। কিন্তু অর্থবছর শেষে সংশোধিত বাজেটে দেখা যায়, উন্নয়ন ব্যয় কমে যায়, অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নে পিছিয়ে পড়ে এবং রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হয় না। বিশ্লেষকদের মতে, বড় প্রকল্পের সংখ্যা বাড়লেও সময়মতো বাস্তবায়ন, ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং প্রকল্পের মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। প্রায় প্রতিবছরই উন্নয়ন বাজেটের একটি বড় অংশ খরচ করা সম্ভব হয় না। অর্থমন্ত্রী  বলেন, এডিপি বাড়ানোর যুক্তি রয়েছে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতিতে গতিশীলতা বাড়বে।

    নতুন সরকারের পরিকল্পনায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিও সম্প্রসারণের দিকে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছর থেকেই নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এ খাতে ব্যয় বাড়ানো শুরু হয়েছে। আগামী বাজেটে এটি আরও বিস্তৃত হতে পারে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের নগদ সহায়তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি উপকারভোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে পারে।

    তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি অনেক ক্ষেত্রে দারিদ্র্য দূর করার পরিবর্তে দারিদ্র্য ব্যবস্থাপনার একটি কাঠামোয় পরিণত হয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান না বাড়িয়ে শুধু ভাতা বৃদ্ধি করে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা কঠিন।

    এদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৮ শতাংশের ওপরে রয়েছে। আগামী বাজেটে এটি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য থাকতে পারে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি জটিল। আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমলেও ডলারের উচ্চমূল্য এবং অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতায় সাধারণ মানুষ এখনও স্বস্তি পাচ্ছে না। চাল, ডাল, তেল, চিনি, মাছ-মাংসসহ নিত্যপণ্যের দামে চাপ অব্যাহত রয়েছে।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছর ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। অন্যদিকে বিদ্যুৎ, এলএনজি, সার, ওএমএস এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে আগামী অর্থবছরে ভর্তুকি ব্যয় প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ফলে সরকারকে একদিকে ভর্তুকি কমানোর চাপ এবং অন্যদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণ—উভয় দিক সামলাতে হবে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মনে করেন, ফ্যামিলি কার্ডসহ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করবে।

    সরকার এখন শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে গতি ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। সে কারণে আগামী বাজেটে কিছু খাতে কর ছাড়, শুল্ক সুবিধা এবং পুনঃতফসিল নীতিতে শিথিলতা আসতে পারে। পাশাপাশি বন্ধ সরকারি কারখানা চালুর অংশ হিসেবে ইজারা এবং সরকারি–বেসরকারি অংশীদারির ভিত্তিতে নতুন বিনিয়োগ কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। এতে তিন বছর পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড এবং দীর্ঘমেয়াদি ইজারার সুবিধাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

    ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, শিল্প খাত এখনো নানা সংকটে রয়েছে। ডলার সংকট, এলসি খোলার জটিলতা, উচ্চ সুদহার এবং গ্যাস–বিদ্যুতের সীমাবদ্ধতায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তাই বিনিয়োগ ধরে রাখতে প্রণোদনা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে দেখা গেছে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোই বেশি সুবিধা পেয়ে থাকে। খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল এবং করছাড় অনেক সময় নিয়মিত ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে। অর্থমন্ত্রী  বলেন, আগামী অর্থবছরে বেসরকারি খাতকে সুবিধা দেওয়া হবে, আবার তাদের কাছ থেকেই কর আদায়ও নিশ্চিত করা হবে।

    অন্যদিকে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের শর্ত ও সংস্কার কর্মসূচির চাপও সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে রাজস্ব বৃদ্ধি, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ, বিনিময় হার আরও বাজারভিত্তিক করা এবং ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর মতো সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে। তবে সরকার এ ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। কারণ কঠোর সংস্কার রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ফলে আংশিক সংস্কারের পথেই এগোনোর ইঙ্গিত মিলছে।

    ব্যাংক খাত সংস্কারও এখন বড় চাপের জায়গা। পাঁচটি ইসলামি ব্যাংক একীভূতকরণ, পুনর্মূলধনীকরণ এবং অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হতে পারে। যদিও এসব ব্যয়ের বড় অংশ সরাসরি বাজেটে দেখা না গেলেও এর প্রভাব অর্থনীতিতে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হতে পারে ৬ থেকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে। তবে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে থাকতে পারে। অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেট বড় করা প্রয়োজন হলেও অর্থের সংকট রয়েছে। সব হিসাব মিলিয়ে এগোনোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সব পক্ষকে স্বস্তি দিতে সূক্ষ্মভাবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

    সব মিলিয়ে আসন্ন বাজেট একদিকে যেমন কর ছাড়, বিনিয়োগে প্রণোদনা এবং সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগোচ্ছে, অন্যদিকে ঋণনির্ভরতা, রাজস্ব ঘাটতি এবং সংস্কার চাপে এর বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    বড় বাজেট, বড় উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং বড় রাজনৈতিক প্রত্যাশার এই সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কতটা ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবে—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আর সেই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে, আগামী অর্থবছরের বাজেট স্বস্তির গল্প লিখবে নাকি নতুন চাপের বাস্তবতা সামনে আনবে।

    সিভি/এম

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    ব্যবসায় গতি ফেরাতে বাজেটে নতুনত্ব চান উদ্যোক্তারা

    মে 21, 2026
    অপরাধ

    বাজারে নীরব ডাকাতি—কে থামাবে ওজনের জালিয়াতি?

    মে 21, 2026
    অপরাধ

    মাদকের সাম্রাজ্য: কে থামাবে ১৬২ পয়েন্টের ১৬০০ গডফাদারকে

    মে 21, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    অর্থনীতি জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.