বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বৈশ্বিক মানের বন্দর অপারেটরদের সম্পৃক্ত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
তিনি বলেন, বন্দরের দক্ষতা বাড়ানো এবং লজিস্টিক সক্ষমতা উন্নত না করলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে। গতকাল ১৩ জুন ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত “বাণিজ্য, প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনীতি রোডম্যাপ ২০২৬ – ঝুঁকি মোকাবিলা: স্থিতিস্থাপকতা কাজে লাগানো” শীর্ষক সম্মেলনে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি উইং এবং বিডা।
তিনি বিশ্বব্যাংকের কনটেইনার বন্দর সূচকের তথ্য তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের ৪০০টি বন্দরের মধ্যে ৩৬৪তম স্থানে রয়েছে। এই অবস্থান দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিক সক্ষমতায় দ্রুত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্ট করে। আশিক চৌধুরী বলেন, “এটি আমাদের কাজের পরিধি কতটা বড় তা দেখিয়ে দেয়। আমরা একটি গর্বিত জাতি।” তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মানের অপারেটরদের বন্দর ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা পিছিয়ে পড়বে।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই গ্যাস সংকট, লজিস্টিক বাধা এবং অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণকে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সরকার এসব সমস্যা সমাধানে সংস্কার কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রস্তাবিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটকে তিনি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বিনিয়োগবান্ধব বাজেট হিসেবে উল্লেখ করেন, যেখানে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চিংড়ি রপ্তানি খাতে সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনকে তিনি খাতভিত্তিক সংস্কারের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন, যা প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেন। জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে উৎপাদননির্ভর অর্থনীতিতে।
এ চাহিদা পূরণে সরকার বৃহৎ আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অব্যবহৃত সরকারি জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে এবং ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নীতিমালা সহজ করছে। তিনি আরও বলেন, জ্বালানি উৎস বৈচিত্র্যকরণ এখন সময়ের দাবি। এ লক্ষ্যে তেল ও গ্যাস খাতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে একটি পৃথক সরকারি টিম কাজ করছে।
আশিক চৌধুরী স্বীকার করেন, জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ এখনো ৫ থেকে ১০ বছর পিছিয়ে আছে। এ ঘাটতি পূরণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফ্লোটিং স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটের অতিরিক্ত সক্ষমতা, স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল এবং ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের দ্বিতীয় ইউনিট সম্প্রসারণের মতো প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

