চট্টগ্রামে একীভূত প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা আমানতের টাকা ফেরত ও ‘হেয়ার কাট’ পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছেন। বুধবার সকাল থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে তারা মানববন্ধন ও মিছিল করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক-এর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে ভুক্তভোগী আমানতকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমাকৃত অর্থ উত্তোলন করা যাচ্ছে না। এতে ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আসন্ন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে আর্থিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে বলে জানান তারা।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ‘আমার টাকা ফেরত চাই’, ‘হেয়ার কাট মানি না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। অনেকেই জানান, প্রবাসে বছরের পর বছর পরিশ্রম করে সঞ্চিত অর্থ দেশে এনে ব্যাংকে জমা রাখলেও এখন প্রয়োজনের সময় সেই টাকা তুলতে পারছেন না। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, অল্প অল্প করে টাকা দেওয়া হচ্ছে, যা দিয়ে স্বাভাবিক খরচ চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবি হলো—আমানতের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উত্তোলনের সব ধরনের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া এবং দ্রুত স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করা। পাশাপাশি গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান তারা।
উল্লেখ্য, তারল্য সংকট ও অনিয়মের কারণে এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এই প্রক্রিয়া ঘিরে কয়েকদিন ধরেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আমানতকারীদের অসন্তোষ বাড়ছে।
বিক্ষোভ চলাকালে এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়। বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা সামনে এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে গ্রাহকদের আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে এবং ব্যাংক খাতের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

