দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে এবার সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমি কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন অখণ্ড, অব্যবহৃত ও জটিলতামুক্ত জমির তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩ দশমিক ৫ একরের বেশি আয়তনের যেসব জমি বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে না, সেগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। এ জন্য বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের কাছে জমির বিস্তারিত তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর এই উদ্যোগের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে রেলওয়ে বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ কয়েকটি সংস্থা থেকে জমির তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হবে। পরে এসব জমির মধ্যে কোনগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের জন্য উপযোগী, তা মূল্যায়ন করা হবে।
এরই মধ্যে সরকারি জমিতে পিপিপি ভিত্তিতে দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। ঢাকার বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বেজা জানিয়েছে, প্রকল্পে আধুনিক ব্যাটারি স্টোরেজ প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফেনীর সোনাগাজীতে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বেজার মালিকানাধীন প্রায় ৪১২ একর জমিতে বড় পরিসরের একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হতে পারে। প্রাথমিকভাবে সেখানে ১৩০ থেকে ১৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি জমিতে পিপিপি পদ্ধতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিপিডিবি চুক্তি সম্পাদনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট সংস্থা জমির মালিক হিসেবে থাকবে।
বেজার নির্বাহী সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) মো. নজরুল ইসলাম জানান, অব্যবহৃত সরকারি জমিকে উৎপাদনমুখী কাজে ব্যবহার করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। তার ভাষ্য, প্রকল্পগুলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিদ্যুৎ বিভাগ কিনে নেবে এবং পুরো কার্যক্রম সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে বেজার জমি ব্যবহার করা হবে এবং অর্থায়নে সহায়তা করতে পারে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এজন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও অংশীদারদের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছু সময় লাগবে।
বেজা বর্তমানে বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলের যেসব জমি তাৎক্ষণিক শিল্পায়নের আওতায় আসছে না, সেগুলোর তালিকা তৈরি করছে। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে কোন জমিগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই পুরো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ‘গাইডলাইনস ফর ডেভেলপমেন্ট অব রিনিউয়েবল এনার্জি প্রজেক্টস ইউজিং ল্যান্ড ওনড বাই গভর্নমেন্ট এজেন্সিস আন্ডার পিপিপি মোডালিটি, ২০২৬’ নীতিমালার আওতায়।
গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তারেক রহমান বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবরা ৩০ এপ্রিলের মধ্যে অব্যবহৃত জমির তথ্য পিপিপি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার বিষয়ে মত দেন।

