বরিশালের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে অব্যবস্থাপনা, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনের সময় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লোজডও করা হয়েছে।
সোমবার বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল ও শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ ও সেবা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন অঞ্চলের হাসপাতালের বাস্তব চিত্র সরাসরি দেখতে মাঠপর্যায়ে যাচ্ছেন তারা।
তিনি জানান, বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে এক কর্মচারীকে দায়িত্বে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। পরে ওই কর্মচারী উপস্থিত থাকার বিষয়ে ভুল তথ্য দেওয়ায় তাকে ক্লোজড করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, শুধু অনুপস্থিত থাকাই নয়, মিথ্যা তথ্য দেওয়াও গুরুতর বিষয় হিসেবে দেখা হয়েছে।
হাসপাতালে রোগীদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি যে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তা হলো চিকিৎসকদের দেরিতে আসা। অনেক রোগী সকাল থেকে অপেক্ষা করলেও বহির্বিভাগে সময়মতো চিকিৎসক পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন তারা। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
একই সঙ্গে হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালচক্র নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যক্তি সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। প্রয়োজন হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের ভেতরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ময়লা-আবর্জনার উপস্থিতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দ্রুত হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দূর করতে প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও কর্মী নেই। অনেক স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ হয়নি। এই সংকট কাটাতে সরকার এক লাখ জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় সরকার নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করায় রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে বলে দাবি করেন তিনি। পরিদর্শনকালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

