নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস-এর সম্পদ, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম এবং অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মহলে তার আর্থিক উত্থান, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার এবং সামাজিক ব্যবসার কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত আদালতের রায় প্রকাশ হয়নি।
সমালোচকদের অভিযোগ, ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের যে লক্ষ্য সামনে আনা হয়েছিল, বাস্তবে তার পুরো সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। তাদের দাবি, সামাজিক ব্যবসা ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের ধারণা সামনে রেখে গড়ে ওঠা বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়িয়েছেন। যদিও তার সমর্থকেরা বলছেন, ক্ষুদ্রঋণ বিশ্বজুড়ে দরিদ্র মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির নতুন পথ তৈরি করেছে।
মুহাম্মদ ইউনূসের কর্মজীবনের শুরু একজন শিক্ষক ও অর্থনীতিবিদ হিসেবে। পরে চট্টগ্রামের জোবরা গ্রামে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম নিয়ে পরীক্ষামূলক কাজ শুরু করেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরে সরকার বিশেষ আইনের আওতায় গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে। ১৯৮৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পান ড. ইউনূস।
সমালোচকেরা আরও দাবি করছেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও আন্তর্জাতিক সংযোগ ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের নানা সংকটের সময় তিনি অনেক ক্ষেত্রে নীরব থেকেছেন, তবে আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। যদিও এ বিষয়ে ইউনূসপন্থীরা বলছেন, তিনি বরাবরই বৈশ্বিক সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক ব্যবসা নিয়ে কাজ করেছেন।
ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে বিতর্কও নতুন নয়। একপক্ষ মনে করে, এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর ক্ষমতায়ন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে সমালোচকেরা বলছেন, উচ্চ কিস্তি ও ঋণের চাপ অনেক দরিদ্র পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সংকটে ফেলেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনকালেও ড. ইউনূসের কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা হয়েছে। বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সুবিধা ব্যবহার করেছেন এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিক অবস্থান নিয়েছেন। তবে তার সমর্থকদের দাবি, তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের বার্তা দিতে কাজ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত ও বিভাজিত ব্যক্তিত্বদের একজন। একদিকে তিনি নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও ক্ষুদ্রঋণের বৈশ্বিক মুখ, অন্যদিকে তার আর্থিক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক ভূমিকা এবং প্রভাব নিয়ে দেশে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে।

