দেশে প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির কারণে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে (বিওপি) বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এ সময়ে বিওপিতে ৩ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত রেকর্ড হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ২১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের এই শক্তিশালী প্রবাহই দেশের বৈদেশিক হিসাবকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে, বিশেষ করে যখন রপ্তানি আয়ে দুর্বল প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয় কিছুটা কমেছে, আবার আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। তবুও প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক ভারসাম্যকে ইতিবাচক রেখেছে।
বাণিজ্য ঘাটতি এখনো উল্লেখযোগ্য হলেও আগের বছরের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল থাকলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপ কমে আসবে এবং রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বগতি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে এবং ডলারের বাজারে আস্থাও বাড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি খাতের পুনরুদ্ধার ছাড়া শুধু রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরতা অর্থনীতির জন্য টেকসই সমাধান নয়। তাই রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও শিল্পখাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, রপ্তানিতে দুর্বলতা থাকলেও প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী প্রবাহ দেশের বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থায় আপাত স্বস্তি এনে দিয়েছে।

