বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পদোন্নতি ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পদোন্নতি বাতিলের মাধ্যমে নাটকীয় মোড় নেয়। সোমবার সকালে জারি করা এক আদেশে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রশীদকে পদোন্নতি দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তবে দিনের শেষভাগে সেই সিদ্ধান্ত হঠাৎ করেই প্রত্যাহার করা হলে পুরো ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।
সূত্র জানায়, সকালে খন্দকার বাকী উদ্দিন আহম্মদের স্বাক্ষরিত এক দপ্তর আদেশে তাকে পদোন্নতির বিষয়টি জানানো হয়। আদেশটি প্রকাশের পরপরই সহকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেউ কেউ বিষয়টিকে স্বাভাবিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলেও অনেকে এর পেছনের প্রেক্ষাপট নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একই বিভাগ থেকে আরেকটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে আগের আদেশ সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করা হয়, যা প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে অস্থিরতা তৈরি করে।
বিমানের একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, মো. মিজানুর রশীদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থে সফটওয়্যার কেনার ক্ষেত্রে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত চলেছিল। যদিও পরবর্তী সময়ে তিনি সেই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান, তবে দুর্নীতি দমন কমিশন এখনো বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এই পটভূমিই তার পদোন্নতি নিয়ে বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।
আরও জানা যায়, চলতি বছরের ৪ মার্চ তিনি মহাব্যবস্থাপক (যানবাহন) পদ থেকে সরিয়ে অর্থ ও হিসাব বিভাগে বদলি হন। পরদিনই আবার তাকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং একই সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। এসব ধারাবাহিক পরিবর্তন নিয়েও তখন প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে নানা আলোচনা ছিল।
হঠাৎ পদোন্নতি দেওয়া এবং অল্প সময়ের মধ্যে তা বাতিল করে দেওয়ার কারণ নিয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে পুরো ঘটনাটি ঘিরে সংস্থার অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

