দেশে শিশুদের মধ্যে হাম ও হামজনিত নিউমোনিয়ার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় জরুরি সতর্ক অবস্থানে গেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদফতর ও এর অধীন সব সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসাসেবা ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদারে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রশাসন বিভাগ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের মধ্যে হাম সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়াসহ জটিলতাও দেখা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, আপদকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় অর্জিত ছুটি ও নৈমিত্তিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি স্থগিত বা বাতিল করা হলো। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। ইতোমধ্যে অনুমোদিত ছুটির ক্ষেত্রেও নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা না পেলে শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করে দ্রুত টিকাদান বাড়ানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তারা আরও বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক অভিভাবক নিয়মিত টিকাদানে অনীহা দেখানোয় শিশুদের একটি অংশ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ফলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। এ কারণে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সরকার ছুটি বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ এবং টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে অতিরিক্ত জরুরি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

