হামের টিকাদান কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে দায় নির্ধারণ এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা রিট আবেদনের শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। আদালত জানতে চান, ড. ইউনূস তো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন না, তাহলে তার বিদেশযাত্রা বন্ধে আদালতের নির্দেশনার প্রয়োজন কেন।
মঙ্গলবার হাইকোর্টে রিটের প্রাথমিক শুনানির সময় বিচারপতিরা রিটকারীর আইনজীবীদের উদ্দেশে এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, দেশে ড. ইউনূসের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে তাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কার যুক্তি কতটা যৌক্তিক, সেটিও বিবেচনায় আসা উচিত।
রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
গত ১৭ মে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলমান হামের টিকাদান কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্ত জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। এতে শিশুস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে এবং সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা বেড়েছে।
রিটে টিকাদান কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘ফৌজদারি অবহেলা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট ২৪ জনের ভূমিকা তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়। তদন্ত চলাকালে তারা যেন দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য আদালতের নিষেধাজ্ঞাও চাওয়া হয়েছে।
তবে শুনানির সময় হাইকোর্ট দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আদালতের পর্যবেক্ষণ থেকে স্পষ্ট হয়, কেবল আশঙ্কার ভিত্তিতে এমন নির্দেশনা চাওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট আইনি ভিত্তি ও যুক্তি থাকা প্রয়োজন।
আইনজীবী মহলে এ ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের মতে, আদালত সাধারণত কারও বিদেশযাত্রা বন্ধের ক্ষেত্রে স্পষ্ট তদন্ত, মামলার অগ্রগতি কিংবা পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কার মতো বিষয় বিবেচনায় নেয়। শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে আদালত সতর্ক অবস্থান নেয়।
এদিকে দেশে সম্প্রতি হাম সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের ছুটি বাতিল করে জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করেছে। এমন পরিস্থিতিতে হামের টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে আদালতে হওয়া এই আইনি লড়াই নতুন আলোচনা তৈরি করেছে জনস্বাস্থ্য ও নীতিনির্ধারণ মহলে।

