দেশজুড়ে হাম সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এর মধ্যে দুই শিশুর মৃত্যুর ক্ষেত্রে হাম সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে, আর বাকি নয়জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে। পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে ওঠায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে গত দুই মাসের সার্বিক পরিস্থিতির চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে, যা স্বাস্থ্য খাতের জন্য বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি হিসাব বলছে, গত দুই মাসে সারা দেশে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৭৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৭৭ শিশু। এছাড়া আরও ৩৯৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে, যাদের অনেকের ক্ষেত্রে পরীক্ষার আগেই মৃত্যু ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম সাধারণত শিশুদের জন্য অত্যন্ত সংক্রামক এবং ঝুঁকিপূর্ণ একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা না পেলে এটি দ্রুত নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, অপুষ্টি এবং অন্যান্য জটিলতায় রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
তাদের মতে, দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ কমে যাওয়া, কিছু এলাকায় টিকা ঘাটতি এবং সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পাশাপাশি অনেক পরিবার শুরুতে রোগের লক্ষণকে গুরুত্ব না দেওয়ায় আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে আনতে দেরি হচ্ছে।
ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর ঘটনায় ইতোমধ্যে জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদফতর সম্প্রতি চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে। একই সঙ্গে হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করা, আইসোলেশন সুবিধা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু স্বাস্থ্য খাতের সংকট নয়, এটি জাতীয় পর্যায়ের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার ইঙ্গিত বহন করছে। তারা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কাভারেজ বাড়ানো না গেলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

