বাজেটে দেশের ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কারের ঘোষণা আসতে যাচ্ছে। নতুন পরিকল্পনায় অনলাইনভিত্তিক আবেদন থেকে শুরু করে লাইসেন্স প্রদান পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ সাত কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে জানা গেছে, ব্যবসা নিবন্ধন ও অনুমোদন ব্যবস্থাকে আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘসূত্রতা, দপ্তরভিত্তিক জটিলতা এবং অতিরিক্ত খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন, ছাড়পত্র ও অনাপত্তিপত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রদান বাধ্যতামূলক করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সংস্থা মতামত না দিলে সেটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হিসেবে গণ্য করার ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনবে।
এছাড়া ব্যবসা নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করার অংশ হিসেবে কোম্পানি গঠন ও নিবন্ধনের সময়সীমা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নামিয়ে আনার প্রস্তাবও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এতে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বাজারে প্রবেশ সহজ হবে এবং স্টার্টআপ খাতে গতি বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মতে, এই ধরনের সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, কেবল নীতি ঘোষণা নয়, বরং বাস্তবায়ন পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
সরকারের লক্ষ্য হলো ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ও একক প্ল্যাটফর্মে আনা, যাতে উদ্যোক্তারা এক জায়গা থেকেই সব সেবা পান এবং অপ্রয়োজনীয় দপ্তর-ঘুরে বেড়ানোর ঝামেলা কমে যায়।

