প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম ভাঙিয়ে সক্রিয় একটি প্রতারক চক্রকে ঘিরে দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভুয়া আইনি নোটিশ ও জেল-জরিমানার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে চক্রটি। এ ধরনের প্রতারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে কোনো আর্থিক লেনদেন না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার আইএসপিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতারক চক্রটি দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষকে টার্গেট করে নিজেদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সদস্য পরিচয় দিচ্ছে। এরপর বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে ভুয়া নোটিশ পাঠিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ‘আইন নিয়ন্ত্রণ বিভাগ’ বা ‘ক্রাইম ইউনিট সেল’ নামে কোনো বিভাগ বা শাখা নেই। অথচ প্রতারকরা এসব কাল্পনিক প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। অনেক ক্ষেত্রে জেল, জরিমানা কিংবা মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
আইএসপিআর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ ধরনের কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করে না এবং সাধারণ নাগরিকদের কাছে এভাবে নোটিশ পাঠানোরও কোনো নিয়ম নেই। ফলে এমন কোনো বার্তা, ফোনকল বা চিঠি পেলে তা যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রতারক চক্রটির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা বেড়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করে দ্রুত অর্থ আদায়ই এসব চক্রের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মেসেজিং ব্যবহার করে তারা সহজেই ভুয়া পরিচয়ে যোগাযোগ করছে।
তাদের মতে, কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান সাধারণত ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে মামলা বা গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করে না। তাই এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
আইএসপিআর সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, প্রতারণার শিকার হলে বা সন্দেহজনক কোনো যোগাযোগ পেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। একই সঙ্গে ভুয়া নোটিশ বা আর্থিক দাবির বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

