রাজধানী ঢাকাতে আপাতত স্বস্তির বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম। আকাশে আংশিক মেঘ থাকলেও আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফলে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার পাশাপাশি বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে নগরজীবনে অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে।
বুধবার সকালে প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। তবে এই বাতাস গরম কমানোর বদলে ভ্যাপসা অনুভূতি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৭ শতাংশ, যা অস্বস্তিকর আবহাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। মঙ্গলবার রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর বুধবারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে করে দিনের বেলায় পিচঢালা সড়ক ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, রিকশাচালক, পথচারী এবং খোলা জায়গায় কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
আবহাওয়াবিদদের মতে, মে মাসের শেষভাগে এসে সাধারণত বৃষ্টিপাত কিছুটা বাড়লেও এবার তাপপ্রবাহ ও আর্দ্রতার সম্মিলিত প্রভাবে গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। শহরের কংক্রিট অবকাঠামো, যানজট এবং পর্যাপ্ত সবুজের অভাবও রাজধানীর তাপমাত্রা ও অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলছে।
তবে শুধু ঢাকা নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও আবহাওয়ার ভিন্ন চিত্র দেখা যেতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সারাদেশের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ময়মনসিংহ বিভাগ ও সিলেট বিভাগর অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রংপুর বিভাগ, রাজশাহী বিভাগ, ঢাকা বিভাগ, খুলনা বিভাগ, বরিশাল বিভাগ এবং চট্টগ্রাম বিভাগর কিছু কিছু এলাকাতেও বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, নোয়াখালী, খুলনা, বাগেরহাট এবং যশোর জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের গরমে শরীর সহজেই পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে। তাই অপ্রয়োজনে রোদে বের না হওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

