আইফোন ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে নতুন এক ধরনের প্রতারণা চক্র সক্রিয় হয়েছে, যেখানে প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপলের নাম ব্যবহার করে ভুয়া সতর্কবার্তা পাঠিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি এমন একটি ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে এক নারী প্রায় ২৪ হাজার ডলার হারিয়েছেন।
প্রতারণার কৌশল হিসেবে ব্যবহারকারীদের কাছে ‘অ্যাপল হাই অ্যালার্ট’ নামে একটি বার্তা পাঠানো হচ্ছে। সেখানে দাবি করা হচ্ছে, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ অননুমোদিতভাবে সরানো হচ্ছে এবং দ্রুত নির্দিষ্ট একটি নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়। আতঙ্কিত হয়ে অনেকে সেই নির্দেশনা অনুসরণ করছেন।
ঘটনার শিকার এক নারী জানান, বার্তায় বলা হয় তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে এবং টাকা নিরাপদ রাখতে হলে দ্রুত অন্য একটি ‘নিরাপদ’ অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে হবে। ফোনে প্রতারকরা নিজেদের সহায়তাকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জন করে।
পরে দেখা যায়, ভুক্তভোগীর পাঠানো অর্থ একটি ভুয়া অনলাইন অ্যাকাউন্টে জমা হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারকেরা খুব দ্রুত অর্থ বিভিন্ন দেশের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে ফেলে, ফলে তা ফেরত পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মূলত ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ কৌশলের অংশ, যেখানে প্রযুক্তিগত হ্যাকিংয়ের বদলে মানুষের ভয়, অজ্ঞানতা ও আতঙ্ককে কাজে লাগানো হয়। ভুয়া সতর্কবার্তা, ফোনকল বা ই–মেইলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করে ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়।
প্রযুক্তি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রতারণার সবচেয়ে সাধারণ কৌশল হলো জরুরি পরিস্থিতির ভয় দেখানো। যেমন—অ্যাকাউন্ট ঝুঁকিতে আছে, অর্থ চুরি হচ্ছে বা নিরাপত্তা ভেঙে গেছে—এ ধরনের বার্তা দিয়ে ব্যবহারকারীকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয়।
তারা সতর্ক করে বলছেন, কোনো অবস্থাতেই অচেনা নম্বর বা বার্তার ভিত্তিতে অর্থ স্থানান্তর করা উচিত নয়। ব্যাংক বা প্রযুক্তি কোম্পানি সাধারণত ফোনে সরাসরি এমনভাবে অর্থ সরানোর নির্দেশ দেয় না। এ ধরনের ঘটনায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। সন্দেহজনক বার্তা পেলে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা গ্রাহকসেবা নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

