গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আনুষ্ঠানিক গণশুনানি শুরু করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। রাজধানীতে আয়োজিত এই শুনানিতে বিতরণ কোম্পানি, সরকারি সংস্থা ও ভোক্তা অধিকার প্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিদ্যুতের সম্ভাব্য নতুন মূল্যহার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদসহ কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন। পাশাপাশি অংশ নিয়েছেন দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন ভোক্তা সংগঠনের সদস্যরা।
বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে পাইকারি বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় তাদের ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
কোম্পানিগুলোর বক্তব্য, বর্তমান দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। তারা বলছে, উৎপাদন ও বিতরণ ব্যয়ের সঙ্গে খুচরা পর্যায়ের দামের বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতি সমন্বয় করতে না পারলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড প্রথমে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। এরপর পর্যায়ক্রমে বিতরণ কোম্পানিগুলোও গ্রাহক পর্যায়ে নতুন দাম নির্ধারণের আবেদন জমা দেয়।
এর আগে বুধবার পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়েও আলাদা গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক সংকট, ভর্তুকির চাপ এবং জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
অন্যদিকে ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার মধ্যে আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষ আরও চাপে পড়বে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছেন, বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজন থাকলেও দাম বাড়ানোর আগে সিস্টেম লস, অপচয় এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কমানোর দিকে জোর দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব জনসমক্ষে আনার দাবিও উঠেছে।
গণশুনানিতে পাওয়া মতামত ও প্রস্তাব পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে নতুন বিদ্যুৎ মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।

