দেশে কাঁচামাল ও প্রস্তুত পণ্য আমদানির শুল্কের মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ পার্থক্য রয়েছে, যা শিল্প খাতের প্রতিযোগিতায় বড় বাধা তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন টিকে গ্রুপের পরিচালক টিকে গ্রুপ–এর পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার।
তিনি বলেন, কার্যকর প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে হলে এই পার্থক্য অন্তত ১০ শতাংশ হওয়া জরুরি। তার মতে, প্রস্তুত পণ্যের ওপর শুল্ক কম থাকায় দেশীয় উৎপাদন খাত চাপে পড়ছে। তাই প্রস্তুত পণ্য আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাবও দেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেল–এ অনুষ্ঠিত ‘সংকটকালের বাজেট ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শওকত হোসেন, হেড অব অনলাইন, প্রথম আলো।
আলোচনায় মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার আরও বলেন, উচ্চ সুদের হার দেশের শিল্প খাতকে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিচ্ছে। তার ভাষায়, বাংলাদেশে সুদের হার ১২ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ হলেও চীনে তা প্রায় ৪ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৬ থেকে ৮ শতাংশ এবং ভারতে ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে থাকে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুধু সুদের হার নয়, ঋণ পরিশোধের সময়সীমার ক্ষেত্রেও বড় ব্যবধান রয়েছে। চীনে ঋণ ফেরত দেওয়ার সময় ১০ থেকে ২০ বছর, ভিয়েতনামে ৭ থেকে ১২ বছর এবং ভারতে ৮ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত সময় পাওয়া যায়। কিন্তু বাংলাদেশে সাধারণত ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যেই ঋণ পরিশোধ করতে হয়। এ কারণে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পিছিয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গ্যাস সংকট ও বিদ্যুতের উচ্চ মূল্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই শিল্প উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় দেশে বিদ্যুতের দাম ইতিমধ্যেই বেশি, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এছাড়া অগ্রিম আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর ফেরত না পাওয়া নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে তিনি এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের কারণে দেশে সংযোগ শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

