সিএন্ডএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং) এজেন্ট লাইসেন্স পরীক্ষার ফল নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও প্রকাশ করতে পারেনি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি (সিইভিটিএ)। নিয়ম অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফল প্রকাশ করার কথা থাকলেও এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও তা ঘোষণা হয়নি। ফলে এ প্রক্রিয়া ঘিরে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন সিইভিটিএ গত ১৬ মে এই পরীক্ষা আয়োজন করে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় তিন হাজার আবেদনকারীর মধ্যে দুই হাজারের বেশি প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। ৮০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী অল্পসংখ্যক প্রার্থী উত্তীর্ণ হন।
পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পরীক্ষার ফল প্রস্তুত হওয়ার পরই নির্ধারিত কমিটির সদস্যরা তা অনুমোদন করেন এবং প্রকাশের জন্য প্রস্তুত রাখেন। কিন্তু এরপরই ফল প্রকাশে অস্বাভাবিক বিলম্ব শুরু হয়। এতে ফলাফলের স্বচ্ছতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
একাধিক কমিটি সদস্যের দাবি, উত্তীর্ণদের তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পরও কিছু প্রার্থীর নাম যুক্ত করার জন্য চাপ আসে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহল থেকে অতিরিক্ত প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করার চেষ্টা করা হয়, যা কমিটির ভেতরে মতবিরোধ তৈরি করে। এর পরই ফলাফল প্রকাশ আটকে যায়।
আরও অভিযোগ অনুযায়ী, যেসব তালিকা সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেখানে এমন কিছু পরীক্ষার্থীর নাম ছিল যারা প্রয়োজনীয় নম্বরের ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেননি। তবে এসব অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
অন্যদিকে সিইভিটিএ কর্তৃপক্ষ তদবির বা চাপের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠানো হয়েছে এবং সেখান থেকেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসবে।
তবে প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য আলাদা করে কোনো উচ্চতর অনুমোদনের প্রয়োজন নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাদের মতে, ফল আটকে রাখা নিয়মের ব্যত্যয় এবং এতে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত ফল ঘোষণা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের আহ্বানও উঠেছে।
এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ফলাফল কবে প্রকাশ হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

