বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের নতুন ধাপে যাচ্ছে সরকার। গভীর ও অগভীর সমুদ্র মিলিয়ে মোট ২৬টি ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করতে যাচ্ছে পেট্রোবাংলা। আজ রবিবার (২৪ মে) এই দরপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ১২টার পর থেকেই পেট্রোবাংলার ওয়েবসাইটে দরপত্রটি উন্মুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে দেশের জাতীয় দৈনিকগুলোতেও এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ নভেম্বর। এই দীর্ঘ সময় দেওয়া হয়েছে যাতে দেশি-বিদেশি বড় বিনিয়োগকারীরা অংশগ্রহণে আগ্রহী হয়। বিদেশি বিনিয়োগ টানতে সরকার দেশ-বিদেশে রোড শো আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলন এবং বিভিন্ন দেশের দূতাবাস পর্যায়ে যোগাযোগ জোরদার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে রোববার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সেখানে নতুন ‘বাংলাদেশ অফশোর মডেল প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) ২০২৬’ এবং বিডিং রাউন্ডের বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশোধিত পিএসসি-২০২৬-এ বিদেশি কোম্পানিগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অনুসন্ধান পর্যায়ে আগের ৫০ শতাংশের পরিবর্তে এখন মাত্র ২০ শতাংশ এলাকা ফেরত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে মুনাফার অংশ ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে যেখানে উচ্চ সালফার ফুয়েল অয়েলের ভিত্তিতে দাম নির্ধারিত হতো, এখন তা ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, গভীর সমুদ্রের গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হবে তিন মাসের গড় ব্রেন্ট তেলের মূল্যের সর্বোচ্চ ১১ শতাংশ পর্যন্ত। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অংশে গভীর সমুদ্রের ১৫টি এবং অগভীর সমুদ্রের ১১টিসহ মোট ২৬টি ব্লক রয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানি এখানে কাজ শুরু করলেও বাণিজ্যিকভাবে সফল না হওয়ায় তারা কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। তবে এবার সংশোধিত শর্তে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা করছে সরকার। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এক্সনমোবিল এবং শেভরন ইতোমধ্যে এই দরপত্রে আগ্রহ দেখিয়েছে।

