টানা নয় বছর পর প্রথমবারের মতো শ্রমিক অধিকার পরিস্থিতির দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ ১০ দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনগুলোর বৈশ্বিক জোটের প্রকাশিত ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অধিকার সূচকে এই অগ্রগতির তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রম আইন সংস্কার এবং ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল করায় বাংলাদেশের অবস্থার কিছু উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের নভেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার শ্রমিক সংগঠন গঠনের নিয়ম সহজ করে। আগে কোনো প্রতিষ্ঠানে ইউনিয়ন গঠনের জন্য মোট শ্রমিকের ২০ শতাংশের সমর্থন প্রয়োজন হতো। নতুন নিয়মে প্রতিষ্ঠানভেদে মাত্র ২০ জন শ্রমিকের সমর্থনেই ইউনিয়ন গঠন করা সম্ভব হচ্ছে।
এ ছাড়া ১২০ দিনের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি, গৃহকর্মী ও কৃষিশ্রমিকদের শ্রম অধিকার কাঠামোর আওতায় আনা এবং জাহাজভাঙা শিল্পকে শ্রম আইনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো পদক্ষেপও ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, শ্রমিকদের সংগঠন করার স্বাধীনতা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। প্রশাসনিক জটিলতা, মালিকপক্ষের বাধা এবং শ্রমিক আন্দোলন দমনে বিভিন্ন ধরনের হস্তক্ষেপ এখনও বিদ্যমান।
সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আগের মতোই সর্বনিম্ন পঞ্চম শ্রেণিতে রয়েছে, যার অর্থ শ্রমিক অধিকারের কোনো কার্যকর নিশ্চয়তা নেই। এই শ্রেণিতে বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, ভারত, পাকিস্তান, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডসহ ৪১টি দেশ রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ধর্মঘট ও শ্রমিক আন্দোলন প্রায়ই পুলিশি হস্তক্ষেপের মুখে পড়ে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বকেয়া বেতন ও উৎসব ভাতার দাবিতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্রম গবেষক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ এই অগ্রগতিকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করলেও তিনি বলেন, বাস্তব পরিবর্তন আনতে প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা জরুরি। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে এখনও নানা জটিলতা রয়েছে।
বিশ্বের ১৫২টি দেশের শ্রমিক অধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়নের ভিত্তিতে তৈরি এই সূচকে দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে শ্রমিক অধিকার পরিস্থিতি ধারাবাহিকভাবে অবনতির দিকে যাচ্ছে। অনেক দেশে শ্রমিক নেতাদের গ্রেপ্তার, আন্দোলন দমন এবং সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে।
প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, শ্রমিক অধিকারের সংকট এখন আর কেবল কিছু দেশের সমস্যা নয়; এটি বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র ও কর্মপরিবেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

