রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার বোয়ালিয়া খালের ওপর ব্যক্তিগত উদ্যোগে বেইলি ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আলোচিত স্বদেশ প্রোপার্টিজের স্বর্ণালী আবাসন প্রকল্পের জন্য নির্মাণাধীন এই সেতুর পাশাপাশি খাল ভরাটে চলমান বালু ফেলার কার্যক্রমও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন দেওয়ানের করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে গত ১ জুন এ আদেশ দেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ লিখিত আদেশের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন রিটকারীর আইনজীবী রাফসান-অল-আলভি। শুধু নিষেধাজ্ঞাই নয়, বোয়ালিয়া খালের সরকারি জমি ব্যবহার করে বেইলি ব্রিজ নির্মাণের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) দেওয়া অনুমোদন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুলও জারি করেছেন আদালত।
একইসঙ্গে খালে বালু ভরাট বন্ধে রাজউক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আদালত রাজউকের চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাওথার মৌজায় অবস্থিত সরকারি বোয়ালিয়া খালের ওপর কংক্রিটের পিলার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর পরিপন্থী।
আবেদনে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট আইনের ৮ ও ১২ ধারা অনুযায়ী জলাধার হিসেবে চিহ্নিত কোনো স্থানের শ্রেণি পরিবর্তন বা ভরাট করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব অপরাধের জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। রিটে অভিযোগ করা হয়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ জলাশয়গুলো রক্ষার চ্যালেঞ্জের মধ্যেই স্বদেশ প্রোপার্টিজের আবাসন প্রকল্পের সুবিধার্থে রাজউক বেইলি ব্রিজ নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে।
আবেদনকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, সেতুটি মূলত স্বর্ণালী আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দাদের যাতায়াত সুবিধার জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে এর ফলে আশপাশের স্থায়ী বাসিন্দারা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। পাশাপাশি এলাকাটি বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল হওয়ায় অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণ ও খাল ভরাট রাজধানীর পরিবেশ ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
রিটকারীর পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, স্বদেশ প্রোপার্টিজের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন গুলশান এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াকিল উদ্দিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি দেশত্যাগ করেন। পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এম এ কাইয়ুম প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।

