দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৭৯৬ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ৫৫৬ জন। সব মিলিয়ে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬৪৮ জনে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত কয়েক মাসে দেশে হামের বিস্তার দ্রুত বেড়েছে। এ সময়ে হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসার জন্য দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি বা চিকিৎসা নিয়েছেন ৮৪ হাজার ৮৯৯ জন। তাদের মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ১০ হাজার ২৪৮ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকা শিশু এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়ছে। সময়মতো টিকা গ্রহণ, আক্রান্ত ব্যক্তিকে পৃথক রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর তারা জোর দিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে। একই সঙ্গে হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষায় জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতা বাড়ানো এখন সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

