দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও বৈরী আবহাওয়ার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (১৪ জুন) দুপুরের মধ্যে দেশের অন্তত ১০টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ভোর থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের কয়েকটি অঞ্চলে আবহাওয়ার পরিস্থিতি অস্থির থাকতে পারে। বিশেষ করে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত বাতাসের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা বৃদ্ধি এবং বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে মেঘের ঘনত্ব বাড়ছে। এর ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই দমকা হাওয়া, বজ্রপাত এবং বৃষ্টিপাতের ঘটনা ঘটতে পারে। উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হবে। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুন মাসে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা স্বাভাবিক। তবে বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় খোলা মাঠ, নদী ও জলাশয়ের আশপাশে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকদের ফসল ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক কয়েক দিনের ধারাবাহিক বৃষ্টির কারণে দেশের অনেক এলাকায় তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের ঘটনাও ঘটতে পারে।
আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় জনসাধারণকে নিয়মিত পূর্বাভাস অনুসরণ করার এবং প্রয়োজন ছাড়া বৈরী আবহাওয়ার সময় নদীপথে যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

