রাজধানীতে এক সচেতনতামূলক সভায় সাংবাদিক জ ই মামুন বলেছেন, শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঘটনার দায় নিয়ে সাবেক বা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারের পাশাপাশি তিনি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেও দায়ী মনে করেন। তার এই বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত ওই সভায় তিনি বলেন, টিকাদান ও স্বাস্থ্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যে ধরনের কর্মপরিকল্পনা থাকা দরকার ছিল, তা যথাযথভাবে এগোয়নি বলে তিনি মনে করেন। তার দাবি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রশাসনিক দায়িত্বের অংশ হলেও তা বাস্তবায়নে ঘাটতি ছিল।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় বিভিন্ন সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা গেলেও শেষ পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রশাসনিক কাঠামোর ওপরই বর্তায়। তার মতে, কোনো বড় জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি ব্যাহত হলে এর দায় এককভাবে নয়, বরং বিভিন্ন স্তরের ওপর বর্তাতে পারে।
জ ই মামুন বলেন, টিকাদান কার্যক্রমে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা না থাকায় শিশুদের একটি অংশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা পায়নি বলে তিনি মনে করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি অতীত ও বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি তার বক্তব্যে আরও বলেন, কোনো বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট বা ব্যর্থতার ক্ষেত্রে পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী—উভয় পক্ষের ভূমিকা বিচার করা প্রয়োজন। তার ভাষায়, দায়িত্ব নির্ধারণে কেবল একটি পক্ষকে নয়, পুরো ব্যবস্থাকেই বিবেচনায় নিতে হবে।
এই বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে বিষয়টিকে প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রশ্ন হিসেবে দেখলেও, অন্যরা এটিকে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে দায়ী করার অভিযোগ হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য, সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি বিভিন্ন সময়ের সরকারের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন এবং স্বাস্থ্য খাতের নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের দুর্বলতা নিয়ে সমালোচনা করেন। এ ঘটনায় নতুন করে জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

