ভারত থেকে বাংলাভাষী, বিশেষ করে মুসলিম পরিচয়ের মানুষদের কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটি বলেছে, সীমান্তে চলমান এ ধরনের কর্মকাণ্ড মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
এক বিবৃতিতে এইচআরডব্লিউ জানায়, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী সীমান্ত দিয়ে লোকজনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। এর ফলে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বহু মানুষ দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় মানবেতর অবস্থায় আটকে পড়ছেন।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরু থেকে দুই শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর অন্তত ২১টি প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এতে সীমান্ত এলাকায় মানবিক সংকটের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া পরিবারগুলোকে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া এবং দিনের পর দিন অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা অমানবিক আচরণ। তিনি এ ধরনের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংস্থাটি দাবি করেছে, সীমান্ত এলাকায় অবস্থানকারী ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বসবাস করেছেন। তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর আটক, বহিষ্কার বা সীমান্তে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এইচআরডব্লিউ আরও বলেছে, প্রত্যাবাসন যদি স্বেচ্ছায় এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে জোরপূর্বক কাউকে সীমান্ত পার করে দেওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ব্যক্তিগত সম্পদ ছাড়া বহিষ্কার করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির লঙ্ঘন।
সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন আটককেন্দ্রে বিপুলসংখ্যক মানুষ অবস্থান করছেন, যাদের একটি বড় অংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব বা অধিকার নির্ধারণের প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেছে তারা।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, সীমান্তের শূন্যরেখায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবা ছাড়া পরিবারগুলোকে আটকে রাখা মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। বিশেষ করে শিশুদের এমন পরিস্থিতিতে ফেলে রাখা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সংস্থাটি ভারত সরকারের প্রতি অবিলম্বে জোরপূর্বক ‘পুশ ইন’ বন্ধ, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং মানবিক মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমন্বিত ও মানবিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে।

