জাতীয় সংসদে স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানানোর ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও রীতি অনুসরণ করতে পারবেন বলে স্পষ্ট করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর বৃহস্পতিবার অধিবেশনে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানান তিনি।
স্পিকার বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে বর্তমানে কোনো সদস্যকে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে প্রত্যেক সদস্য তার ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত বিশ্বাস অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন।
বিষয়টি সামনে আসে গত ১৬ জুন। সে সময় পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান সংসদে প্রচলিত মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর রীতি নিয়ে আপত্তি তোলেন। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের প্রথা ইসলামী বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিতর্কের সৃষ্টি করতে পারে। এরপর স্পিকার বিষয়টি কার্যপ্রণালি বিধি পর্যালোচনা করে সংসদকে জানাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে রুলিং দিতে গিয়ে স্পিকার সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৭ নম্বর বিধির উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ওই বিধি অনুযায়ী সংসদের বৈঠক চলাকালে অধিবেশনকক্ষে প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় এবং আসন গ্রহণ বা ত্যাগ করার সময় সদস্যদের সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।
তবে তিনি জানান, অতীতে কার্যপ্রণালি বিধিতে ব্যবহৃত ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি পরবর্তীতে সংশোধনের মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে তিনি দেখেছেন, অষ্টম জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংসদে একটি সংশোধনী গৃহীত হয়েছিল, যেখানে ২৬৭ নম্বর বিধি থেকে ওই শব্দটি অপসারণ করা হয়।
স্পিকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিধি থেকে ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দ বাদ দেওয়ার ফলে সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। ফলে সদস্যরা নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন, বিশ্বাস ও রীতি অনুসরণ করেই স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানাতে পারবেন।
সংসদীয় কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও মর্যাদা বজায় রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এর মাধ্যমে সাম্প্রতিক বিতর্কের একটি আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তি হলো।

