সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণে গঠিত সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, সংশ্লিষ্ট সচিব কমিটির পর্যবেক্ষণ, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের জন্য আলাদা প্রস্তাব এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রশাসনিক সূত্রগুলো জানায়, এটি ছিল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নবম পে স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, বিধিমালা সংশোধন এবং প্রজ্ঞাপন জারির কাজ সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এ কারণে বর্ধিত বেতন কার্যকর হলেও তা কর্মচারীদের হাতে পৌঁছাতে অক্টোবর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী ২৪ জুন পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে বাস্তবায়ন কাঠামো আরও চূড়ান্ত করা হবে। ধারাবাহিক এই বৈঠকগুলোর মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণের দিকে অগ্রসর হচ্ছে সরকার।
এদিকে নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে বর্তমানে দেওয়া ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা বা ইনসেনটিভ আলাদাভাবে বহাল থাকবে না। তা নতুন মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ফলে মূল বেতন বৃদ্ধি পেলেও কার্যকর বা নেট বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম হবে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি উপকৃত হবেন, যেখানে তাদের কার্যকর বেতন বৃদ্ধি প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি প্রায় ৪০ শতাংশের কাছাকাছি থাকবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অস্থায়ী ভাতা ও বিশেষ সুবিধার পরিবর্তে মূল বেতন বাড়ানো হলে ভবিষ্যতে পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য অবসর সুবিধাও বৃদ্ধি পাবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এটি চাকরিজীবীদের জন্য আরও স্থিতিশীল আর্থিক কাঠামো তৈরি করবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে বেতন ও ভাতা খাতে প্রায় ৮৯ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পেনশনসহ মোট ব্যয় এক লাখ কোটিরও বেশি। জনপ্রশাসন খাতে বড় অঙ্কের অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার একটি অংশ নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে ব্যবহৃত হবে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারের লক্ষ্য হলো দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, তবে একই সঙ্গে আর্থিক শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতিও নিশ্চিত করতে হবে। তাই পে স্কেল কার্যকরের পথে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন পরবর্তী বৈঠকগুলোর ওপর নির্ভর করছে।
সব মিলিয়ে নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়লেও চূড়ান্ত ঘোষণা ও কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।

