প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, সরকার করের হার বৃদ্ধি না করে উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিসর বাড়ানোর মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির কৌশল গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখেই বিভিন্ন নীতি ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত এক বাজেট আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. তিতুমীর জানান, সরকার একটি নতুন অর্থনৈতিক মডেলের দিকে এগোচ্ছে। এই মডেলে বিনিয়োগ থেকে উৎপাদন, উৎপাদন থেকে কর্মসংস্থান এবং কর্মসংস্থান থেকে করের হার না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তাঁর মতে, অতীতের অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে এই মডেলের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। আগে বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে এবং একসময় তা স্থবির অবস্থায়ও পৌঁছেছিল।
তিনি বলেন, বর্তমান নীতিতে উৎপাদনমুখী শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যাতে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলা করা সম্ভব হয়। কোভিড-১৯ মহামারি কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মতো পরিস্থিতি আগে থেকে অনুমান করা যায়নি।
একইভাবে সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য বিঘ্নসহ নানা অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের আস্থার কারণেই সরকার দেশোপযোগী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পাচ্ছে।
জ্বালানি খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, সরকারের পরিকল্পনায় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। প্রথমত, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য ও আণবিক জ্বালানির দিকে অগ্রসর হতে হবে।
দ্বিতীয়ত, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে জ্বালানির মূল্য ধরে রাখতে হবে। এ বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এর ফলাফল দৃশ্যমান হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তৃতীয়ত, শিল্পকারখানার উৎপাদন চাহিদা পূরণে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, অতীতে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে দেশের স্থলভাগ ও সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের প্রচেষ্টা জোরদার করা হচ্ছে।
চতুর্থত, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ খাতে অগ্রসর হতে হলে দেশের ভেতরেই উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে চলতি বাজেটে বিভিন্ন উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য ড. রুবানা হক, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স সলিডারিটির সভাপতি তাসলিমা আখতার।

