দেশের ওষুধ শিল্প এখন অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানি বাজারেও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এই খাত থেকে প্রতি বছর সরকার শুল্ক, কর ও অন্যান্য রাজস্ব হিসেবে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা আয় করে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের ১৮টি শীর্ষ ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ উঠেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের আইটেমভিত্তিক উৎপাদন প্রতিবেদন জমা দিতে গত ১২ মে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে চিঠি পাঠানো হয়। এরপর কয়েক দফা তাগিদ দেওয়া হলেও প্রায় তিন মাস পার হয়ে যাওয়ার পরও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাওয়া তথ্য পাওয়া যায়নি। এলটিইউ কমিশনার সৈয়দ আতিকুর রহমানের সই করা চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রচলিত আইন অনুযায়ী, এনবিআরের এই তথ্য চাওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার রয়েছে। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৮২ ধারায় করদাতাদের ব্যবসা ও উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা এনবিআরকে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছে। অথচ আইন অনুযায়ী এসব তথ্য সরবরাহ করা তাদের বাধ্যবাধকতা। তার ভাষ্য, কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্বচ্ছ হলে উৎপাদনের রেকর্ড দিতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে উৎপাদন প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই) পিএলসি, এরিস্টোফার্মা লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি, ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড, জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি, নুভিস্তা ফার্মা পিএলসি, ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেড, প্যাসিফিক ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, রেনাটা পিএলসি, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি, সাইনোভিয়া ফার্মা পিএলসি, দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড এবং দি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রি পিএলসি। এ ছাড়া, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডকেও আলাদাভাবে উৎপাদন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আইটেমভিত্তিক উৎপাদনের তথ্য হাতে এলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কত ইউনিট ওষুধ উৎপাদিত হয়েছে এবং কত ইউনিট বিক্রি হয়েছে, তা সহজেই যাচাই করা সম্ভব হবে। উৎপাদন ও বিক্রির তথ্যের মধ্যে অস্বাভাবিক পার্থক্য থাকলে বাজারে কোনো ওষুধ অনানুষ্ঠানিক বা অবৈধ পথে বিক্রি হচ্ছে কি না এবং সরকারের প্রাপ্য ভ্যাট ও কর যথাযথভাবে জমা পড়ছে কি না, তা যাচাই করা সহজ হবে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, নির্ধারিত তথ্য শেষ পর্যন্ত জমা না দিলে এনবিআর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। প্রয়োজনে অডিট টিম পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কারখানা থেকেই উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

