বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের মধ্য থেকেই একদিন বিশ্বমানের ফুটবলার উঠে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব ফুটবলে যেভাবে লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকারা কোটি কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করছেন, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের শিশুরাও ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হবে।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তাই সরকার শুধু শিক্ষা নয়, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী শিশুদের জন্য আরও বেশি খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে কেবল ক্রিকেটনির্ভর ক্রীড়া সংস্কৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। ফুটবল, অ্যাথলেটিক্সসহ বিভিন্ন খেলায় আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। দেশের তরুণদের মধ্যে যে প্রতিভা রয়েছে, সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে তারা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু খেলাধুলায় নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই দক্ষতা অর্জন করতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রীড়া, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা এবং নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা একটি উন্নত জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি শিশুদের নিজেদের পছন্দের খেলাধুলা নিয়মিত চর্চা করার আহ্বান জানান।
সরকারপ্রধান আরও বলেন, যে শিশু গান গাইতে চায়, ছবি আঁকতে চায় কিংবা ধর্মীয় শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন করতে চায়— সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। একটি আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও সৃজনশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
অনুষ্ঠানে তিনি নতুন একটি উদ্যোগের কথাও জানান। আগামী বছর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স কাপ’ নামে নতুন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের আরও বড় সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিন টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে রাজশাহীর পাবনার সাঁথিয়ার জোড়গাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ময়মনসিংহের নান্দাইলের আচারগাঁও উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে ফুটবলাররা দারুণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। তাদের খেলা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা।
পরে চ্যাম্পিয়ন জোড়গাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল শুরু হওয়া দেশব্যাপী এই টুর্নামেন্টে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেয়, যা দেশের স্কুলভিত্তিক ক্রীড়া আয়োজনগুলোর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের অবস্থানও আরও শক্তিশালী হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য সেই দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্নকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে, যেখানে একদিন বাংলাদেশের মাটিতেই জন্ম নেবে বিশ্ব ফুটবলের পরবর্তী তারকারা।

