সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগে একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়। নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী আসল ও নতুন যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করে নকল পণ্য দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যাদেশ বাতিল, দরপত্রের জামানত বাজেয়াপ্ত এবং কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় জানিয়েছে, সরকারি অর্থে কেনা পণ্যের মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণার সঙ্গে আপস করা হবে না। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি ও সুশাসন বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কার্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ও অফিস সরঞ্জাম উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় একটি নতুন ফটোকপি মেশিন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত একটি প্রতিষ্ঠানকে সরঞ্জাম সরবরাহের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতি যাচাই-বাছাইয়ের সময় দেখা যায়, কার্যাদেশে উল্লেখিত মান ও স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে পণ্যের মিল নেই।
অভিযোগ রয়েছে, সম্পূর্ণ নতুন ও মূল ব্র্যান্ডের যন্ত্র সরবরাহের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানটি একটি ক্লোন বা নকল মেশিন সরবরাহের চেষ্টা করে। বিষয়টি ধরা পড়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত ও পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাথমিক যাচাইয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ঘটনাটিকে সরকারি ক্রয়নীতির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনার ভিত্তিতে কার্যাদেশ বাতিল করা হয় এবং দরপত্রে জমা দেওয়া নিরাপত্তা জামানত বাজেয়াপ্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পাশাপাশি ভবিষ্যতে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করতে প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রয় কার্যক্রমে প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় অসাধু সরবরাহকারীরা সরকারি অর্থের অপচয় ঘটানোর সুযোগ পেয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় নকল বা নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ শুধু আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই ক্রয়-পরবর্তী যাচাই ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা বিশ্লেষকদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ই-টেন্ডারিং ও বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের ফলে স্বচ্ছতা কিছুটা বেড়েছে। তবে এখনও কিছু ক্ষেত্রে প্রতারণা ও অনিয়মের চেষ্টা দেখা যায়। ফলে নজরদারি ও জবাবদিহি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সিদ্ধান্তকে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় অনিয়মের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়, বরং ভবিষ্যতে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান যাতে একই ধরনের প্রতারণার সাহস না পায়, সে জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি ইতোমধ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের নজরে আনা হয়েছে। সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মানসম্মত পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

