রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন প্রতিষ্ঠানটির শত শত বিদেশি মেডিকেল শিক্ষার্থী। ক্লাস, ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের শিক্ষা ও পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংকট নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়ে একদল বিদেশি শিক্ষার্থী সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যান। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে পারেননি। এতে শিক্ষার্থীদের হতাশা আরও বেড়েছে।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাদের নিয়মিত পাঠদান, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট হাতে-কলমে শিক্ষা কার্যত থমকে গেছে। বিশেষ করে শেষ বর্ষ ও ইন্টার্নশিপ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কারণ চিকিৎসা শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশই হাসপাতালভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর নির্ভরশীল।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের একজন জানান, তারা বিভিন্ন দপ্তর, দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কার্যকর কোনো সমাধানের আশ্বাস পাননি। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
ভারত থেকে এসে অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থী বলেন, স্থানীয় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের কিছু সুযোগ থাকলেও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি অনেক বেশি জটিল। নির্ধারিত শিক্ষাক্রম, নিবন্ধন এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কারণে তাদের জন্য মাঝপথে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যাওয়া সহজ নয়। ফলে দীর্ঘ সময়ের পড়াশোনা ও বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজে মোট ২৯৫ জন বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে ৮৬ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং ২০৯ জন বিভিন্ন বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী। অধিকাংশই ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়নের জন্য এসেছেন।
চিকিৎসা শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি মেডিকেল কলেজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল দক্ষতা অর্জন ব্যাহত হয়। এর প্রভাব শুধু তাদের একাডেমিক অগ্রগতিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং ভবিষ্যতে পেশাগত যোগ্যতা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াতেও জটিলতা তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী চিকিৎসা শিক্ষা নিতে বাংলাদেশে আসেন। তাই এ ধরনের সংকট দীর্ঘায়িত হলে দেশের মেডিকেল শিক্ষার আন্তর্জাতিক সুনাম ও বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণের সক্ষমতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, শিক্ষা কার্যক্রম পুনরুদ্ধার এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা প্রয়োজন। অন্যথায় শত শত শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষা খাতের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

