জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে সম্পূর্ণ ‘অবাস্তব ও বাস্তবায়ন অযোগ্য’ বলে কঠোর সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব আলম সালেহী। তিনি অভিযোগ করেন, এই বাজেটে সম্পদের সুষম বণ্টন হয়নি; বরং বৈষম্য আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নকে চরমভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বাজেটকে ‘গরিব মারার বাজেট’ বলেও আখ্যা দেন।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
বাজেট বক্তৃতায় ব্যারিস্টার মাহবুব আলম সালেহী বলেন, অর্থমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন যে সম্পদের অসম বণ্টন, সুশাসনের অভাব এবং দুর্নীতির কারণে অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি হয়েছে। তার মতে, এই স্বীকারোক্তি সত্ত্বেও বাজেটে তা মোকাবিলার জন্য কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা বা কৌশল নেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ছাড়া কীভাবে ৩০০ আসনে সম্পদের সুষম বণ্টন সম্ভব হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বৈষম্য রয়েছে। গত কয়েক মাসের বরাদ্দ পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা যে পরিমাণ বরাদ্দ পাচ্ছেন, বিরোধী দলের সদস্যরা তা পাচ্ছেন না। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বগুড়ার শিবগঞ্জে ১৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও গাজীপুরে তার চেয়ে প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তার প্রশ্ন, এ ধরনের বৈষম্য থাকলে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা উন্নয়ন প্রকল্পে কীভাবে অংশ নেবেন।
তিনি স্পিকারের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বাজেটের তিন লাখ কোটি টাকা যেন ৩০০টি সংসদীয় আসনে সমানভাবে ভাগ করা হয়। প্রতিটি আসনে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বাজেটকে ‘বৈষম্যের দলিল’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গ এই বাজেটে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের আলোচিত তিস্তা প্রকল্প, কুড়িগ্রামে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল এবং মেডিক্যাল কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। কৃষিখাতেও পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, তার নির্বাচনী এলাকার ৭১ শতাংশ সড়ক এখনো কাঁচা, কিন্তু সেগুলো পাকা করার কোনো নিশ্চয়তা বাজেটে নেই।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রাকে তিনি অবাস্তব বলে মন্তব্য করেন। তার অভিযোগ, নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ওপর করের চাপ বাড়ানো হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় আয়করের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি ছোট ব্যবসার টার্নওভারের ওপর এক শতাংশ কর আরোপকে তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। তার বক্তব্যের শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম হালকা রসিকতা করে বলেন, তিনি অনেক ক্ষেত্রেই বাজেট বরাদ্দ না থাকার কথা বলেছেন, এমনকি ভোলা–বরিশাল সেতুর ক্ষেত্রেও বরাদ্দ নেই বলেও মন্তব্য করেন।

