রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বুধবার (২৪ জুন) দুপুরের মধ্যেই ঝড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। দিনের শুরু থেকেই আকাশে মেঘের আনাগোনা এবং বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, সকালের তুলনামূলক শান্ত আবহাওয়াকে দেখে নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই, কারণ দুপুরের আগেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার মধ্যে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। যদিও তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই, তবে উচ্চ আর্দ্রতার কারণে গরমের অনুভূতি কিছুটা বেশি থাকতে পারে।
আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯০ শতাংশ, যা বাতাসে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকার ইঙ্গিত দেয়। গতকাল রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতও রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, পাবনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টিও হতে পারে। এ কারণেই সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি মূলত মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং বায়ুমণ্ডলে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা জমে থাকার ফল বলে মনে করছেন আবহাওয়া বিশ্লেষকরা। বর্ষা মৌসুমে এ ধরনের আবহাওয়া স্বাভাবিক হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। ফলে কোথাও কোথাও স্বল্প সময়ের মধ্যে জলাবদ্ধতা কিংবা স্থানীয়ভাবে বন্যার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের সার্বিক আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। শুধু হালকা বৃষ্টিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, দেশের কিছু স্থানে মাঝারি থেকে অতিভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় ইতোমধ্যেই বন্যার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এই অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে বুধবারের আবহাওয়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জন্য সতর্কতার বার্তা নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে নদীপথে চলাচলকারী নৌযান, জেলে এবং খোলা স্থানে কর্মরত মানুষের জন্য আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করা জরুরি। কারণ মৌসুমি এই ঝড়ো পরিস্থিতি খুব দ্রুত সৃষ্টি হতে পারে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই এর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
তবে একটি ইতিবাচক দিক হলো, বৃষ্টির কারণে দেশের অনেক অঞ্চলে ভ্যাপসা গরম কিছুটা কমতে পারে। যদিও তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তবুও বৃষ্টির পর আবহাওয়ায় সাময়িক স্বস্তি ফিরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

