দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে ১৫টি বেসরকারি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মাদকসংক্রান্ত প্রায় ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রচলিত আদালতগুলোতেও বিচার কার্যক্রম চলমান থাকবে।
তিনি বলেন, বর্তমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে মাদক অপরাধ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক মাদক ব্যবসায়ীর নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী থাকলেও অভিযানে অংশ নেওয়া অধিদপ্তরের পরিদর্শকদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। ফলে আইন প্রয়োগকারী এই কর্মকর্তারা নানা ঝুঁকির মুখে দায়িত্ব পালন করছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, মাদক শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগারেরও ঘাটতি রয়েছে। এর ফলে জব্দ করা মাদকের দ্রুত পরীক্ষা সম্পন্ন করা এবং আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মামলার কারণে আদালতগুলোও অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের পর থানায় হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত রাখার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিজস্ব হাজতখানা নেই। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশোধিত আইনে হাজতখানা নির্মাণ, পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি, ডগ স্কোয়াড গঠন এবং আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এসব সুবিধা নিশ্চিত হলে মাদকবিরোধী অভিযান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন ও আধুনিকায়নের কাজ চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ-সংক্রান্ত সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হতে পারে।
তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে অপরাধের ধরনও পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক মাদক কেনাবেচা বাড়ছে। সেই অর্থ বিভিন্ন অবৈধ পথে স্থানান্তর করা হচ্ছে এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সম্পদ গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী ও আধুনিক আইনি কাঠামো প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

