বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর নিয়োগ বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ওই পদে দায়িত্ব পালনকালে গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক সিন্ডিকেট সিদ্ধান্তের আলোকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক প্রশাসনিক আদেশে জানানো হয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের একটি সভায় ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশে পরিবর্তন আনা হয় এবং পরবর্তীতে ওই পরিবর্তিত বিধানের ভিত্তিতে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহকে আজীবন মেয়াদে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে পরবর্তী পর্যালোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করেছে, ওই সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াগত ও বিধিগতভাবে যথাযথ ছিল না।
প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট সভায় আলোচ্যসূচির বাইরে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে তা নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক প্রশ্ন তৈরি হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সাম্প্রতিক সিন্ডিকেট সভায় আগের সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। এর ভিত্তিতেই ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে দেওয়া আজীবন নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুন থেকে ইমেরিটাস অধ্যাপক পদে থাকা অবস্থায় তিনি যে বেতন-ভাতা বা আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন, তা বিশ্ববিদ্যালয়কে ফেরত দিতে হবে। বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে এ সিদ্ধান্তে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ। তিনি মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পদক্ষেপ তার প্রতি অবিচার এবং একটি সম্মানজনক একাডেমিক স্বীকৃতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল।
প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখার পর জীবনের এই পর্যায়ে এসে এমন সিদ্ধান্ত তার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইমেরিটাস অধ্যাপক পদকে বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এ ধরনের পদ বাতিলের ঘটনা খুবই বিরল।
চিকিৎসা শিক্ষা অঙ্গনে সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা, চিকিৎসাসেবা এবং জনস্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। দেশের বহু চিকিৎসক তাঁর ছাত্র হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে চিকিৎসক সমাজ ও একাডেমিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ প্রশাসনিক শুদ্ধাচার ও বিধিবিধান অনুসরণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, আবার অনেকে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি ও সম্মান রক্ষার প্রশ্নও সামনে আনছেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিষয়টি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, বিধিমালা অনুসরণ এবং একাডেমিক সম্মাননার কাঠামো নিয়ে বৃহত্তর আলোচনারও সুযোগ তৈরি করেছে। আগামী দিনে এ বিষয়ে আরও প্রতিক্রিয়া ও ব্যাখ্যা সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

