দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে চলতি বছরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন বরিশাল বিভাগে। এছাড়া ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগেও নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, গত একদিনে বরিশাল বিভাগে ৪৯ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩১ জন, খুলনা বিভাগে ৩১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৮ জন এবং ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলায় ২৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৩ জন এবং রাজশাহী বিভাগে পাঁচজন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
একই সময়ে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৪৮ জন রোগী। এ নিয়ে চলতি বছরে মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫ হাজার ৬৭ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫১৫ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি। মোট রোগীর প্রায় ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং প্রায় ৩৭ শতাংশ নারী।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যে একজনের মৃত্যু হয়েছে, তিনি খুলনা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকার বাসিন্দা। এর ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি সাধারণত বাড়তে থাকে। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হওয়ায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই বাসাবাড়ি, অফিস ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে না দেওয়া, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা।
স্বাস্থ্য বিভাগও নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

