দেশের ৮৫ শতাংশেরও বেশি শ্রমিক এখনো আইনি সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরে রয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)। সংগঠনটির মতে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের সুরক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে কার্যকর প্রতিফলন দেখা যায়নি। ফলে শ্রমিকদের প্রত্যাশা ও বাজেটে বরাদ্দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়ে গেছে।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেটে শ্রমিকের ন্যায্য হিস্যা, বাজেট ২০২৬-২৭-এর পর্যালোচনা ও প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন বিলসের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের শ্রমজীবী মানুষের বড় একটি অংশ বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন। একদিকে বিভিন্ন শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে শ্রমিক ছাঁটাই ও বকেয়া মজুরি পরিশোধ না হওয়ায় অনেক শ্রমিককে রাজপথে নেমে আন্দোলন করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক আউটসোর্সিং ও দৈনিকভিত্তিক কর্মচারী চাকরির নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ পরিস্থিতিতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি আরও সম্প্রসারণ করে সব ধরনের শ্রমিককে এর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানায় বিলস।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিলসের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। সূচনা বক্তব্য দেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ। প্রস্তাবিত বাজেটের পর্যালোচনা ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন গবেষণা বিভাগের উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলাম। বক্তব্য দেন বিলসের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মেসবাহউদ্দীন আহমেদ। এ সময় শ্রমিকবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট নিশ্চিত করতে ১৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
বিলসের পরিচালক কোহিনুর মাহমুদের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন শ্রমিক অধিকার অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) যুগ্ম সমন্বয়কারী এএএম ফয়েজ হোসেন এবং শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের প্রতিনিধি রাজিব আহমেদসহ অন্যান্যরা।

