আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে করা রিটকে বিচারিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্তের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তার দাবি, ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার ও কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধান প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার পর থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে বিভিন্ন আলোচিত মামলার কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাইব্যুনালের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচার প্রক্রিয়াকে ধীর বা বিতর্কিত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রসিকিউশন দলের কার্যক্রম এবং ট্রাইব্যুনালের বিচারিক সাফল্যকে খাটো করতে পরিকল্পিতভাবে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিচারিক কার্যক্রম আইনসম্মত ও স্বচ্ছভাবে এগিয়ে যাওয়ায় একটি মহল ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কের মুখে ফেলতে সক্রিয় হয়েছে।
প্রধান প্রসিকিউটরের দাবি, যিনি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি অতীতে এই একই ট্রাইব্যুনালের মামলায় অংশ নিয়েছিলেন। তাই বর্তমান রিট আবেদনকে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পরিসরেও ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর কয়েকটি ধারা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। আবেদনটি সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, আইনটির কয়েকটি বিধান সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই এসব ধারার সাংবিধানিক বৈধতা আদালতের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে আবেদনকারী উল্লেখ করেছেন।
এদিকে প্রধান প্রসিকিউটরের বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে প্রসিকিউশন বলছে, রিটের উদ্দেশ্য বিচার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করা; অন্যদিকে আবেদনকারী পক্ষের দাবি, সংবিধানের সঙ্গে আইনের সামঞ্জস্য যাচাই করা আদালতের এখতিয়ারের মধ্যেই পড়ে। ফলে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে।

